লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের (১৮+ ভোট) ভিত্তিতে হওয়া
সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (TL;DR)
সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার ("এক ব্যক্তি, এক ভোট, এক মূল্য"): ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রতিটি ভারতীয় নাগরিককে কোনো বৈষম্য ছাড়াই লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার হওয়ার এবং সমান মূল্যের ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার দেয়।
সহজ নাগরিক ভাষায় অর্থ
১৯৫০ সালে ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই ধারা ৩২৬ মানব ইতিহাসের সবচেয়ে সাহসী গণতান্ত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে: পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে নারী ও দরিদ্রদের ভোটাধিকার পেতে যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী লেগেছিল, সেখানে ভারত প্রথম দিন থেকেই ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে সমান ভোটাধিকার প্রদান করে।
শুরুতে ভোটের বয়স ২১ বছর থাকলেও, ১৯৮৮ সালের ঐতিহাসিক ৬১তম সংবিধান সংশোধনী আইনের মাধ্যমে তা কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়। ধারা ৩২৫ (যা ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিষিদ্ধ করে)-এর সাথে মিলে ধারা ৩২৬ ড. আম্বেদকরের 'এক ব্যক্তি, এক ভোট, এক মূল্য' নীতিকে বাস্তবায়িত করে।
শুরুতে ভোটের বয়স ২১ বছর থাকলেও, ১৯৮৮ সালের ঐতিহাসিক ৬১তম সংবিধান সংশোধনী আইনের মাধ্যমে তা কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়। ধারা ৩২৫ (যা ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিষিদ্ধ করে)-এর সাথে মিলে ধারা ৩২৬ ড. আম্বেদকরের 'এক ব্যক্তি, এক ভোট, এক মূল্য' নীতিকে বাস্তবায়িত করে।
প্রধান সাংবিধানিক বিধান ও মূল বিষয়
১৮ বছর পূর্ণ হলেই ভোটার তালিকায় (Electoral Roll) নাম তোলার অধিকার (বছরে ৪টি যোগ্যতার তারিখ: ১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই, ১ অক্টোবর)
ভোটের মূল্যের পূর্ণ সমতা: একজন দিনমজুর এবং দেশের সবচেয়ে ধনী শিল্পপতির একটি ভোটের মূল্য হুবহু সমান
ভয়ভীতি বা প্রলোভন ছাড়া গোপন ব্যালটে (Secret Ballot) নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা
কোনো প্রার্থীকে পছন্দ না হলে ইভিএমে 'নোটা' (NOTA) বোতাম টিপে প্রত্যাখ্যান করার অধিকার (PUCL রায়, ২০১৩)
প্রার্থীদের তথ্য জানার অধিকার: প্রার্থীদের ফৌজদারি মামলা, সম্পত্তি, ঋণ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার হলফনামা জানার অধিকার (ADR রায়, ২০০২)
ভোটের দিন সবেতন ছুটির (Paid Holiday) আইনি অধিকার: জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩৫B ধারা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার জন্য কোনো কর্মী বা শ্রমিকের বেতন কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ
৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (PwD) ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা
ব্যতিক্রম ও যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ (সীমাবদ্ধতা)
ধারা ৩২৬ অনুযায়ী কেবলমাত্র আইন দ্বারা নির্ধারিত চারটি কারণে কাউকে ভোটাধিকার থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা যায়: (১) অনাবাসিক হওয়া, (২) উপযুক্ত আদালত কর্তৃক মানসিক ভারসাম্যহীন ঘোষণা, (৩) অপরাধ (কারাদণ্ড ভোগরত বন্দি), অথবা (৪) দুর্নীতিমূলক বা বেআইনি নির্বাচনী আচরণ।
দৈনন্দিন জীবনে এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ধারা ৩২৬ সাধারণ নাগরিকের আঙুলের কালির দাগকে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ শক্তিতে পরিণত করেছে, যার সামনে প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষমতাবান শাসকদেরও মাথা নত করতে হয়।
আরও গভীরে পড়তে চান? সরকারি গেজেট পাঠ অথবা সুপ্রিম কোর্টের রায় ও গণপরিষদ বিতর্ক দেখুন: