জরুরি অবস্থা চলাকালীন তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ বলবৎ স্থগিতকরণ (অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ ব্যতীত)
সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (TL;DR)
অনুচ্ছেদ 359 (জরুরি অবস্থা চলাকালীন তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ বলবৎ স্থগিতকরণ (অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ ব্যতীত)): ১৮শ অংশের অধীনে জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কঠোর সাংবিধানিক রক্ষাকবচ।
সহজ নাগরিক ভাষায় অর্থ
সংবিধানের ১৮শ অংশের (জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান) অনুচ্ছেদ 359 'জরুরি অবস্থা চলাকালীন তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ বলবৎ স্থগিতকরণ (অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ ব্যতীত)' নির্ধারণ করে। এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা (৩৫২-৩৫৪), রাজ্যকে রক্ষার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব (৩৫৫), রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন (৩৫৬-৩৫৭), মৌলিক অধিকারের অবস্থান (৩৫৮-৩৫৯) এবং আর্থিক জরুরি অবস্থা (৩৬০) পরিচালনা করে। ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর (১৯৭৮) পর জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) কখনোই স্থগিত করা যায় না।
প্রধান সাংবিধানিক বিধান ও মূল বিষয়
সাংবিধানিক বিধান (অনুচ্ছেদ 359): Part XVIII-এর অধীনে 'জরুরি অবস্থা চলাকালীন তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ বলবৎ স্থগিতকরণ (অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ ব্যতীত)' বিষয়ে বাধ্যতামূলক আইনি নিয়ম নির্ধারণ করে
এতে 5টি দফা (Clauses) ও 2টি উপ-দফা এবং সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক শর্তাবলী (Provisos) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে
স্বেচ্ছাচারী প্রশাসনিক আদেশের পরিবর্তে সংসদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক করে
ব্যতিক্রম ও যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ (সীমাবদ্ধতা)
প্রতিটি জরুরি ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংসদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক এবং এস.আর. বোম্মাই রায় (১৯৯৪) অনুযায়ী এটি আদালতের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার অধীন।
দৈনন্দিন জীবনে এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
যুদ্ধ বা জাতীয় সংকটে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে এবং একই সাথে নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতার অধিকারকে স্বৈরাচারের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে।
আরও গভীরে পড়তে চান? সরকারি গেজেট পাঠ অথবা সুপ্রিম কোর্টের রায় ও গণপরিষদ বিতর্ক দেখুন:
🏛️
ড. বি. আর. আম্বেদকর ও এইচ. ভি. কামাত
খসড়া সভাপতি ও সংসদীয় সতর্কপ্রহরী • ২–৪ ও ১৯–২০ আগস্ট, ১৯৪৯
অনুচ্ছেদ 359 প্রণয়নের প্রেক্ষাপট: যুদ্ধ ও জাতীয় সংকটকালে দেশকে রক্ষা করার জন্য সরকারকে বিশেষ জরুরি ক্ষমতা দেওয়া, কিন্তু একই সাথে স্বৈরাচারী ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা।
“
"আমি অস্বীকার করছি না যে এই ধারাগুলোর রাজনৈতিক অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে... তবে আমি বিশ্বাস করি এই ক্ষমতার অধিকারী রাষ্ট্রপতি সংবিধান স্থগিত করার পূর্বে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবেন।"
সংবিধান সভার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োগ
অনুচ্ছেদ 359-এর মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত: ৩৫২-৩৬০ অনুচ্ছেদে জরুরি অবস্থার বিধান রাখা হয় যা সংসদের অনুমোদনের অধীন এবং ৪৪তম সংশোধনীর (১৯৭৮) মাধ্যমে জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১-কে অলঙ্ঘনীয় করা হয়।
🏛️ সাংবিধানিক তাৎপর্য:
গণপরিষদের বিতর্কে অনুচ্ছেদ 359-কে ভারতের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি অপরিহার্য স্তম্ভ হিসেবে বিধিবদ্ধ করা হয়।
সরকারি সাংবিধানিক মূল পাঠ (গেজেট বেয়ার অ্যাক্ট)
সংসদ কর্তৃক প্রণীত ও সংশোধিত প্রামাণিক আইনি পাঠ • দফা-ভিত্তিক (Clause-by-Clause) আইনি বিশ্লেষণ
India Code • Govt. of India Archive
দ্রষ্টব্য: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৪৮(১)(বি) অনুযায়ী বিচারবিভাগীয় নির্ভুলতার জন্য মূল বিধিবদ্ধ পাঠ ইংরেজিতে সংরক্ষিত, তবে এর সম্পূর্ণ সহজ বাংলা ব্যাখ্যা প্রথম ট্যাবে (নাগরিক দৃষ্টি) দেওয়া হয়েছে।
Clause (1)
Where a Proclamation of Emergency is in operation, the President may by order declare that the right to move any court for the enforcement of such of the rights conferred by Part III (except articles 20 and 21) as may be mentioned in the order and all proceedings pending in any court for the enforcement of the rights so mentioned shall remain suspended for the period during which the Proclamation is in force or for such shorter period as may be specified in the order.
Clause (1A)
While an order made under clause (1) mentioning any of the rights conferred by Part III (except articles 20 and 21) is in operation, nothing in that Part conferring those rights shall restrict the power of the State as defined in the said Part to make any law or to take any executive action which the State would but for the provisions contained in that Part be competent to make or to take, but any law so made shall, to the extent of the incompetency, cease to have effect as soon as the order aforesaid ceases to operate, except as respects things done or omitted to be done before the law so ceases to have effect:
Provided that where a Proclamation of Emergency is in operation only in any part of the territory of India, any such law may be made, or any such executive action may be taken, under this article in relation to or in any State or Union territory in which or in any part of which the Proclamation of Emergency is not in operation, if and in so far as the security of India or any part of the territory thereof is threatened by activities in or in relation to the part of the territory of India in which the Proclamation of Emergency is in operation.
Clause (1B)
Nothing in clause (1A) shall apply —
Sub-clause (a)
to any law which does not contain a recital to the effect that such law is in relation to the Proclamation of Emergency in operation when it is made; or
Sub-clause (b)
to any executive action taken otherwise than under a law containing such a recital.(
Clause (2)
An order made as aforesaid may extend to the whole or any part of the territory of India:
Provided that where a Proclamation of Emergency is in operation only in a part of the territory of India, any such order shall not extend to any other part of the territory of India unless the President, being satisfied that the security of India or any part of the territory thereof is threatened by activities in or in relation to the part of the territory of India in which the Proclamation of Emergency is in operation, considers such extension to be necessary.
Clause (3)
Every order made under clause (1) shall, as soon as may be after it is made, be laid before each House of Parliament.
পাবলিক ডোমেইন (Public Domain) ও বিধিবদ্ধ প্রামাণিকতা বিজ্ঞপ্তি
ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭-এর ধারা ৫২(১)(কিউ) অনুযায়ী ভারতের সংবিধান, সংসদের আইন, সরকারি গেজেট এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রায়সমূহ পাবলিক ডোমেইনের (Public Domain) অন্তর্ভুক্ত। এই পাঠ্যটি ভারত সরকারের আইন ও বিচার মন্ত্রকের লেজিসলেটিভ ডিপার্টমেন্টের (India Code) সরকারি আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত।
তখন বনাম এখন: সাংবিধানিক পরিবর্তন ও ভিজ্যুয়াল ডিফারেন্স
জরুরি অবস্থা চলাকালীন তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ বলবৎ স্থগিতকরণ (অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ ব্যতীত)
🟡 ১৯৫০-এর পর সংশোধিত (Amended Since 1950)
Baseline: Jan 26, 1950 → Today
মূল সংবিধান (১৯৫০ ভিত্তি)
২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ সালে গণপরিষদ কর্তৃক মূল ৩৯৫টি অনুচ্ছেদের অংশ হিসেবে প্রণীত (জরুরি অবস্থা চলাকালীন তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ বলবৎ স্থগিতকরণ (অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ ব্যতীত))। সময়ের সাথে গণতান্ত্রিক প্রয়োজনে এতে 1টি সাংবিধানিক সংশোধনী আনা হয়েছে।
বর্তমান কার্যকর আইন (আজকের অবস্থা)
সংশোধিত বিধানসহ বর্তমানে সম্পূর্ণ কার্যকর: অনুচ্ছেদ 359 (জরুরি অবস্থা চলাকালীন তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ বলবৎ স্থগিতকরণ (অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ ব্যতীত)): ১৮শ অংশের অধীনে জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কঠোর সাংবিধানিক রক্ষাকবচ।
প্রধান সংশোধনী ও শব্দগত পরিবর্তন
44তম সংবিধান সংশোধনী আইন, 1978 — অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ (জীবনের অধিকার) কখনো স্থগিত না হওয়ার স্থায়ী তালা
Year 1978
কেন হয়েছিল: নিশ্চিত করে যে জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ (জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার) কখনো কেড়ে নেওয়া যাবে না এবং মন্ত্রিসভার লিখিত অনুমোদন ছাড়া জরুরি অবস্থা জারি হবে না।
Amended (20, 21, 300A, 352, 359): অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ (জীবনের অধিকার) কখনো স্থগিত না হওয়ার স্থায়ী তালা