অনুচ্ছেদ 29
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
ধারা ২৯ ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রধান রক্ষাকবচ। ধারা ২৯(১) অনুযায়ী, ভারতের যেকোনো অংশে বসবাসকারী নাগরিকদের যেকোনো গোষ্ঠীর নিজস্ব স্বতন্ত্র ভাষা, লিপি বা সংস্কৃতি থাকলে তা সংরক্ষণ করার পূর্ণ মৌলিক অধিকার রয়েছে। ধারা ২৯(২) স্পষ্ট করে যে সরকারি বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেবল ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা ভাষার ভিত্তিতে কোনো নাগরিককে ভর্তি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ 30
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
ধারা ৩০ ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ভাষাগত সংখ্যালঘু (যেমন মহারাষ্ট্রে বা দিল্লিতে বাংলাভাষী নাগরিক)-দের শিক্ষাগত অধিকারের প্রধান সনদ। ধারা ৩০(১) অনুযায়ী সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ) স্থাপন ও পরিচালনার মৌলিক অধিকার রয়েছে। ধারা ৩০(২) অনুযায়ী সরকারি অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো বৈষম্য করতে পারবে না।
অনুচ্ছেদ 31
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
অনুচ্ছেদ 31 (সম্পত্তির বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ (৪৪তম সংশোধনী দ্বারা রদকৃত)) সংবিধানের Part III-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু সংসদ সংবিধান (Forty-fourth Amendment (1978)) আইন দ্বারা এটি বাতিল (Omitted/Repealed) করেছে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও ঐতিহাসিক রেফারেন্সের জন্য মূল সংহিতায় এর ক্রমিক নম্বরটি সংরক্ষিত রয়েছে।
অনুচ্ছেদ 31A
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 31A 'জমিদারি বা সম্পত্তি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আইনের সুরক্ষা' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
অনুচ্ছেদ 31B
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 31B 'নির্দিষ্ট কিছু আইন ও প্রবিধানের বৈধকরণ (নবম তফসিল)' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
অনুচ্ছেদ 31C
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 31C 'নির্দেশমূলক নীতিসমূহ কার্যকর করার জন্য প্রণীত আইনের সুরক্ষা' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
অনুচ্ছেদ 31D
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
অনুচ্ছেদ 31D (দেশবিরোধী কার্যকলাপ সংক্রান্ত আইনের সুরক্ষা (রদকৃত)) সংবিধানের Part III-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু সংসদ সংবিধান (Forty-third Amendment (1977)) আইন দ্বারা এটি বাতিল (Omitted/Repealed) করেছে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও ঐতিহাসিক রেফারেন্সের জন্য মূল সংহিতায় এর ক্রমিক নম্বরটি সংরক্ষিত রয়েছে।
অনুচ্ছেদ 32
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর গণপরিষদে ড. বি. আর. আম্বেদকর অনুচ্ছেদ ৩২-কে 'সংবিধানের আত্মা ও হৃদয়' বলে অভিহিত করেছিলেন—কারণ মৌলিক অধিকার রক্ষা করার জন্য যদি তাৎক্ষণিক ও নিশ্চিত কোনো বিচারবিভাগীয় প্রতিকার না থাকে, তবে সমস্ত অধিকার কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়।
অনুচ্ছেদ ৩২ নিজেই একটি মৌলিক অধিকার। অনুচ্ছেদ ৩২(১) অনুযায়ী মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে যেকোনো ব্যক্তি সরাসরি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারেন এবং সুপ্রিম কোর্ট মৌলিক অধিকারের 'অভিভাবক ও গ্যারান্টার' হিসেবে কাজ করে। অনুচ্ছেদ ৩২(২)-এর অধীনে সুপ্রিম কোর্ট ৫টি বিশেষ রিট (Writs) জারি করতে পারে: (১) হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus - বেআইনি আটক থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি), (২) ম্যান্ডামাস (Mandamus - সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইনানুগ কর্তব্য পালনে বাধ্য করা), (৩) প্রোহিবিশন (Prohibition - নিম্ন আদালতকে এখতিয়ারের বাইরে যাওয়া থেকে থামানো), (৪) সার্টিওরারি (Certiorari - এখতিয়ারবহির্ভূত বা অবৈধ আদেশ বাতিল করা), এবং (৫) কো ওয়ারেন্টো (Quo Warranto - অবৈধভাবে সরকারি পদ দখলকারীকে অপসারণ করা)।
এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমেই সুপ্রিম কোর্ট জনস্বার্থ মামলা (PIL), চিঠির মাধ্যমে রিট আবেদন (Epistolary Jurisdiction) এবং পুলিশি অত্যাচার বা বেআইনি আটকের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিককে সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ (Constitutional Compensation) প্রদানের যুগান্তকারী নজির স্থাপন করেছে।
অনুচ্ছেদ 32A
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
অনুচ্ছেদ 32A (অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে রাজ্য আইনের সাংবিধানিক বৈধতা বিবেচনা না করা (রদকৃত)) সংবিধানের Part III-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু সংসদ সংবিধান (Forty-third Amendment (1977)) আইন দ্বারা এটি বাতিল (Omitted/Repealed) করেছে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও ঐতিহাসিক রেফারেন্সের জন্য মূল সংহিতায় এর ক্রমিক নম্বরটি সংরক্ষিত রয়েছে।
অনুচ্ছেদ 33
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 33 'সশস্ত্র বাহিনী ইত্যাদির ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার সীমিত বা পরিবর্তন করার সংসদের ক্ষমতা' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
অনুচ্ছেদ 34
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 34 'সামরিক আইন (Martial Law) বলবৎ থাকাকালীন মৌলিক অধিকারের ওপর বিধিনিষেধ' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
অনুচ্ছেদ 35
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 35 'এই ভাগের বিধানসমূহ কার্যকর করার জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
সংবিধানের ৪র্থ অংশের (রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি) অনুচ্ছেদ 36 'সংজ্ঞা (নির্দেশমূলক নীতির ক্ষেত্রে "রাষ্ট্র"-এর সংজ্ঞা)' বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী এই নীতিগুলি দেশ শাসনের মৌলিক ভিত্তি এবং আইন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প প্রণয়নের সময় এগুলি প্রয়োগ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কর্তব্য।
সংবিধানের ৪র্থ অংশের (রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি) অনুচ্ছেদ 37 'এই ভাগে অন্তর্ভুক্ত নির্দেশমূলক নীতিসমূহের প্রয়োগ' বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী এই নীতিগুলি দেশ শাসনের মৌলিক ভিত্তি এবং আইন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প প্রণয়নের সময় এগুলি প্রয়োগ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কর্তব্য।
ধারা ৩৮ হলো সংবিধানের ৪র্থ অংশের (নির্দেশমূলক নীতি) মূল ভিত্তি। এটি ভারতকে ঔপনিবেশিক 'পুলিশি রাষ্ট্র' থেকে একটি গণতান্ত্রিক 'জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রে' (Welfare State) রূপান্তরিত করেছে। ধারা ৩৮(১) রাষ্ট্রকে এমন এক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেয় যেখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। ৪৪তম সংশোধনী (১৯৭৮) দ্বারা সংযোজিত ধারা ৩৮(২) ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমাতে এবং বিভিন্ন অঞ্চল ও পেশার মানুষের মধ্যে আয়, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য হ্রাস করার নির্দেশ দেয়।
ধারা ৩৯-এ ৬টি যুগান্তকারী আর্থ-সামাজিক নীতি (দফা a থেকে f) রয়েছে যা আমাদের কর্মজীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে:
• ধারা ৩৯(a): নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের উপযুক্ত জীবিকা অর্জনের সমান অধিকার থাকবে।
• ধারা ৩৯(b) ও (c): দেশের প্রাকৃতিক ও বৈষয়িক সম্পদের বণ্টন জনস্বার্থে হতে হবে এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সম্পদ যেন মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত না হয়।
• ধারা ৩৯(d) — সমকাজে সমবেতন (Equal Pay for Equal Work): নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য একই কাজের বিনিময়ে সমান মজুরি বা বেতন নিশ্চিত করতে হবে।
• ধারা ৩৯(e) ও (f): শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও শক্তির অপব্যবহার করা যাবে না, আর্থিক দায়ে কাউকে বয়স বা শক্তির অনুপযুক্ত কাজে বাধ্য করা যাবে না এবং শিশুদের স্বাধীনতা ও মর্যাদার সাথে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।
ধারা ৩৯A (৪২তম সংবিধান সংশোধনী, ১৯৭৬ দ্বারা সংযোজিত) নির্দেশ দেয় যে টাকার অভাবে কারও যেন ন্যায়বিচার ব্যাহত না হয়। অর্থনৈতিক বা অন্য কোনো অক্ষমতার কারণে কোনো নাগরিক যাতে বিচার পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য রাষ্ট্র বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করবে।
এই ধারার অধীনেই সংসদ 'লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিজ অ্যাক্ট, ১৯৮৭' প্রণয়ন করে, যার মাধ্যমে নালসা (NALSA), প্রতিটি জেলা আদালতে DLSA এবং লোক আদালত গঠিত হয়েছে। সকল নারী (আয় নির্বিশেষে), শিশু, তফসিলি জাতি/উপজাতি (SC/ST), প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হেফাজতে থাকা বন্দি এবং স্বল্প আয়ের নাগরিকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি আইনজীবী ও কোর্ট ফি মওকুফের সুবিধা পান।
মহাত্মা গান্ধীর 'গ্রাম স্বরাজ'-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ধারা ৪০-এ গ্রাম পঞ্চায়েত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯২ সালে ৭৩তম ও ৭৪তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে একে অংশ IX (ধারা ২৪৩–২৪৩O) হিসেবে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া হয়, যার ফলে গ্রাম সভা, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এবং নারীদের জন্য ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ (বহু রাজ্যে ৫০%) আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত হয়েছে।
ধারা ৪১ হলো ভারতের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল উৎস। এটি রাষ্ট্রকে তার অর্থনৈতিক সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ পাওয়ার অধিকার, শিক্ষার অধিকার এবং বেকারত্ব, বার্ধক্য, অসুস্থতা ও প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য প্রদানের নির্দেশ দেয়। মনরেগা (MGNREGA ২০০৫ — ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি), প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আইন (RPwD Act ২০১৬), বার্ধক্য ভাতা ও বিধবা ভাতা প্রকল্পগুলি এই ধারারই প্রত্যক্ষ ফল।
ধারা ৪২ হলো ভারতের শ্রমজীবী নারী ও মায়েদের সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ। এটি রাষ্ট্রকে কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও মানবিক পরিবেশ এবং 'মাতৃত্বকালীন সহায়তা' (Maternity Relief) নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। এই ধারার অধীনেই 'মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন, ১৯৬১' (২০১৭ সালের সংশোধনীতে ২৬ সপ্তাহের পূর্ণ সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি) প্রণীত হয়েছে। 'দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বনাম নারী শ্রমিক (২০০০)' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক রায় দেয় যে কেবল স্থায়ী কর্মীই নয়, দিনমজুর (Daily-wage), অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক নারী কর্মীরাও মাতৃত্বকালীন ছুটির পূর্ণ অধিকারী।
ধারা ৪৩ হলো ভারতীয় শ্রমিক অধিকারের প্রধান সনদ। এটি রাষ্ট্রকে কৃষি, শিল্প বা অসংগঠিত ক্ষেত্রের সকল শ্রমিকের জন্য কাজ, 'জীবনধারণের উপযুক্ত মজুরি' (Living Wage), মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাত্রা এবং অবসর ও ছুটির সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। এর অধীনেই ন্যূনতম মজুরি আইন, প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF), ইএসআই (ESIC) এবং কুটির শিল্পের প্রসার ঘটেছে।
সংবিধানের ৪র্থ অংশের (রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি) অনুচ্ছেদ 43A 'শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণ' বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী এই নীতিগুলি দেশ শাসনের মৌলিক ভিত্তি এবং আইন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প প্রণয়নের সময় এগুলি প্রয়োগ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কর্তব্য।
অনুচ্ছেদ ৪৪ সংবিধানের একটি নির্দেশমূলক নীতি (DPSP)। এটি রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায় যেন সারা ভারতে সকল ধর্মের নাগরিকদের জন্য বিবাহ, তালাক, অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত একটি সাধারণ আইন তৈরি করা হয়। এটি লিঙ্গসমতা ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেয়।
সংবিধানের ৪র্থ অংশের (রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি) অনুচ্ছেদ 45 '৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক যত্ন ও শিক্ষার ব্যবস্থা' বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী এই নীতিগুলি দেশ শাসনের মৌলিক ভিত্তি এবং আইন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প প্রণয়নের সময় এগুলি প্রয়োগ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কর্তব্য।
সংবিধানের ৪র্থ অংশের (রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি) অনুচ্ছেদ 46 'তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং অন্যান্য দুর্বল শ্রেণির শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রসার' বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী এই নীতিগুলি দেশ শাসনের মৌলিক ভিত্তি এবং আইন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প প্রণয়নের সময় এগুলি প্রয়োগ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কর্তব্য।
ধারা ৪৭ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করে যে জনগণের পুষ্টিমান (Nutrition) ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং জনস্বাস্থ্যের (Public Health) উন্নতি সাধন করা রাষ্ট্রের 'প্রাথমিক কর্তব্যসমূহের' অন্যতম। পাশাপাশি, চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য ও নেশাজাতীয় পানীয় বর্জনের নির্দেশ দেয়। মিড-ডে মিল, অঙ্গনওয়াড়ি পুষ্টি প্রকল্প, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইন (FSSAI) এই ধারার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।
সংবিধানের ৪র্থ অংশের (রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি) অনুচ্ছেদ 48 'কৃষি ও পশুপালনের সংগঠন' বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী এই নীতিগুলি দেশ শাসনের মৌলিক ভিত্তি এবং আইন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প প্রণয়নের সময় এগুলি প্রয়োগ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কর্তব্য।
৪২তম সংবিধান সংশোধনী (১৯৭৬) দ্বারা সংযোজিত ধারা ৪৮A, ধারা ৫১A(g) (নাগরিক কর্তব্য) এবং ধারা ২১ (জীবনের অধিকার)-এর সাথে মিলে ভারতের 'সবুজ সংবিধান' গড়ে তুলেছে। সুপ্রিম কোর্ট এই তিনটি ধারাকে একত্রে পাঠ করে 'দূষণকারী ক্ষতিপূরণ দেবে' (Polluter Pays Principle) নীতি প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ২০২৪ সালে 'জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার অধিকার'-কে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সংবিধানের ৪র্থ অংশের (রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি) অনুচ্ছেদ 49 'জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন সৌধ, স্থান ও বস্তুর সুরক্ষা' বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী এই নীতিগুলি দেশ শাসনের মৌলিক ভিত্তি এবং আইন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প প্রণয়নের সময় এগুলি প্রয়োগ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কর্তব্য।
ব্রিটিশ আমলে জেলার কালেক্টর/ডিএম একই সাথে পুলিশ ও রাজস্ব আদায়ের প্রধান ছিলেন এবং ফৌজদারি মামলার বিচারকও ছিলেন—অর্থাৎ অভিযোগকারী এবং বিচারক ছিলেন একই ব্যক্তি! ধারা ৫০ এই ঔপনিবেশিক অবিচার দূর করতে নির্বাহী বিভাগ (পুলিশ/প্রশাসন) থেকে বিচার বিভাগকে (বিচারকদের) পৃথক করার নির্দেশ দেয়।
এই ধারার অধীনেই ১৯৭৩ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি (এবং বর্তমান BNSS, ২০২৩) মারফত জামিন, রিমান্ড ও বিচারের সমস্ত ক্ষমতা প্রশাসনের হাত থেকে সরিয়ে স্বাধীন 'জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের' হাতে অর্পণ করা হয়েছে, যাঁরা সরকারের অধীনে নয় বরং সরাসরি হাইকোর্টের অধীনে কাজ করেন।