সংজ্ঞা ("রাষ্ট্র" শব্দের সাংবিধানিক অর্থ)
মৌলিক অধিকার হলো সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ঢাল। ধারা ১২ নির্ধারণ করে যে কেন্দ্র, রাজ্য, পুলিশ, পৌরসভা ও সরকারি সংস্থাগুলি "রাষ্ট্রের" অংশ এবং এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অধিকার রক্ষা করা যাবে।
মৌলিক অধিকার হলো সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ঢাল। ধারা ১২ নির্ধারণ করে যে কেন্দ্র, রাজ্য, পুলিশ, পৌরসভা ও সরকারি সংস্থাগুলি "রাষ্ট্রের" অংশ এবং এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অধিকার রক্ষা করা যাবে।
ধারা ১৩ বিচারবিভাগকে "জুডিশিয়াল রিভিউ"-এর ক্ষমতা দেয়। সংসদ বা সরকার এমন কোনো আইন বানাতে পারে না যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করে। কোর্ট তা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেবে।
ধারা ১৪ হলো ভারতে 'আইনের শাসন' (Rule of Law)-এর ভিত্তিপ্রস্তর এবং সংবিধানের 'স্বর্ণালী ত্রিভুজ' (ধারা ১৪, ১৯ ও ২১)-এর প্রথম স্তম্ভ। এটি দুটি মহান সাংবিধানিক নীতিকে একত্রিত করেছে: (১) 'আইনের দৃষ্টিতে সমতা'—যার অর্থ কোনো ব্যক্তিই (তিনি যত ধনী বা ক্ষমতাশালীই হোন না কেন) আইনের ঊর্ধ্বে নন; এবং (২) 'আইনের সমান সুরক্ষা'—যার অর্থ সমপর্যায়ের মানুষের সাথে আইনের আচরণ সমান হতে হবে। ১৯৭৪ সালে 'ই.পি. রোয়াপ্পা' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যুগান্তকারী রায় দেয় যে 'সমতা এবং স্বেচ্ছাচারিতা পরস্পর বিরোধী।' যখনই কোনো সরকারি দপ্তর, পুলিশ বা প্রশাসন কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া পক্ষপাতদুষ্ট, অন্যায্য বা খেয়ালখুশিমতো সিদ্ধান্ত নেয়, তখনই ধারা ১৪ সেই বেআইনি পদক্ষেপকে বাতিল করার ক্ষমতা দেয়।
ধারা ১৫ সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে নাগরিকের দৈনন্দিন রক্ষাকবচ। ধারা ১৫(১) অনুযায়ী রাষ্ট্র কেবল ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের সাথে বৈষম্য করতে পারে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ধারা ১৫(২) বেসরকারি মালিকানাধীন জনপরিসরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য: কোনো দোকান, পাবলিক রেস্তোরাঁ, হোটেল, শপিং মল বা সিনেমা হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিংবা সরকারি অর্থে নির্মিত পুকুর, কূপ, স্নানঘাট ও রাস্তা ব্যবহারে কাউকে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি, প্রকৃত সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধারা ১৫(৩) থেকে ১৫(৬) রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা আইন ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের এবং তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST), অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC) ও আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (EWS) শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণের সাংবিধানিক ক্ষমতা দেয়।
অনুচ্ছেদ ১৬ সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করে। এটি বৈষম্যহীন নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনগ্রসর শ্রেণি, এসসি, এসটি ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (EWS) প্রতিনিধিত্বের জন্য সংরক্ষণের সুযোগ দেয়।
অনুচ্ছেদ ১৭ ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম শর্তহীন মৌলিক অধিকার। এটি জাতিভিত্তিক অস্পৃশ্যতার সামাজিক কুপ্রথা সমূলে বিনাশ করে। কোনো ব্যক্তিকে জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে মন্দিরে, পানির উৎসে, দোকানে বা হাসপাতালে প্রবেশে বাধা দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ।
ব্রিটিশ আমলে 'রায় বাহাদুর', 'খান বাহাদুর' ও 'স্যার'-এর মতো খেতাব দিয়ে সমাজে কৃত্রিম অভিজাত শ্রেণি তৈরি করা হতো। ধারা ১৮ এই সামন্ততান্ত্রিক বৈষম্যের অবসান ঘটিয়েছে। ধারা ১৮(১) অনুযায়ী রাষ্ট্র সামরিক বা শিক্ষাগত সম্মান (যেমন পরমবীর চক্র, পিএইচডি, ডাক্তার) ছাড়া অন্য কোনো উপাধি প্রদান করবে না। 'বালাজি রাঘবন বনাম ভারত সরকার (১৯৯৬)' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে ভারতরত্ন ও পদ্ম পুরস্কারগুলি ধারা ১৮-এর অধীনে 'উপাধি' নয়, বরং মেধার স্বীকৃতি—তবে শর্ত থাকে যে প্রাপকরা এগুলি নিজেদের নামের আগে বা পরে (Prefix/Suffix) ব্যবহার করতে পারবেন না।
ধারা ১৯ ভারতীয় গণতন্ত্রের অক্সিজেন। ধারা ১৯(১)-এর অধীনে এটি দেশের প্রতিটি নাগরিককে ৬টি মৌলিক স্বাধীনতা প্রদান করে: • ধারা ১৯(১)(ক) — বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: এর মধ্যে রয়েছে কথা বলা, লেখা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সরকারি নীতির সমালোচনা করা, তথ্য জানার অধিকার (RTI), ইন্টারনেটে মতপ্রকাশ এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অধিকার। • ধারা ১৯(১)(খ) — অস্ত্র ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার: শান্তিপূর্ণ মিছিল, জনসভা ও অবস্থান-বিক্ষোভ করার অধিকার। • ধারা ১৯(১)(গ) — সংস্থা, ইউনিয়ন বা সমবায় সমিতি গঠনের অধিকার: রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন (ট্রেড ইউনিয়ন), ক্লাব বা এনজিও গড়ার স্বাধীনতা। • ধারা ১৯(১)(ঘ) — ভারতের সর্বত্র অবাধ চলাচলের অধিকার: দেশের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নির্দ্বিধায় যাতায়াতের অধিকার। • ধারা ১৯(১)(ঙ) — ভারতের যেকোনো অংশে বসবাস ও স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার: যেকোনো শহরে বা রাজ্যে বাসা ভাড়া নেওয়া বা বসবাসের অধিকার। • ধারা ১৯(১)(ছ) — যেকোনো পেশা, বৃত্তি, বাণিজ্য বা ব্যবসা পরিচালনার অধিকার: হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ডাক্তার, উকিল বা স্টার্টআপ—সবার বৈধ জীবিকা অর্জনের স্বাধীনতা।
ধারা ২০ হলো পুলিশি জুলুম ও প্রাক্তন-তারিখের দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে নাগরিকের অভেদ্য বর্ম। ধারা ২১-এর সাথে এটি এতটাই পবিত্র যে ৪৪তম সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী জাতীয় জরুরি অবস্থার সময়েও এটি কখনো স্থগিত করা যায় না। এর তিনটি প্রধান স্তম্ভ রয়েছে: ১. ধারা ২০(১) — ভূতাপেক্ষ ফৌজদারি আইন থেকে সুরক্ষা (Ex-Post Facto Law): কোনো কাজ করার সময় তা যদি আইনত অপরাধ না হয়ে থাকে, তবে পরে নতুন আইন তৈরি করে সেই পুরোনো কাজের জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না বা তৎকালীন নির্ধারিত সাজার চেয়ে বেশি সাজা দেওয়া যাবে না। ২. ধারা ২০(২) — দ্বৈত দণ্ড থেকে সুরক্ষা (Double Jeopardy): একই অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তিকে আদালতে একাধিকবার বিচার ও দণ্ডিত করা যাবে না। ৩. ধারা ২০(৩) — আত্ম-অভিযুক্তকরণ থেকে মুক্তি (Right against Self-Incrimination): কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। তাই থানায় পুলিশের ভয়ে বা মারধরে দেওয়া স্বীকারোক্তি কিংবা সাদা কাগজে স্বাক্ষর আদালতে সম্পূর্ণ মূল্যহীন।
ধারা ২১ মাত্র একটি বাক্যে লেখা—'আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে তার জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না'—কিন্তু এটি বিশ্বের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্তৃত মানবাধিকার সনদে পরিণত হয়েছে। এতে 'ব্যক্তি' শব্দটি ব্যবহৃত হওয়ায় এটি ভারতীয় নাগরিক ও বিদেশি—উভয়কেই সুরক্ষা দেয়। ১৯৭৮ সালের ঐতিহাসিক 'মেনকা গান্ধী বনাম ভারত সরকার' রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ধারা ১৪, ১৯ ও ২১-কে যুক্ত করে 'স্বর্ণালী ত্রিভুজ' (Golden Triangle) প্রতিষ্ঠা করে। আদালত ঘোষণা করে যে 'জীবন' মানে কেবল পশুর মতো বেঁচে থাকা বা নিঃশ্বাস নেওয়া নয়—এর অর্থ 'পূর্ণ মানবিক মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার'। এছাড়া যে আইনের মাধ্যমে স্বাধীনতা সীমিত করা হবে, সেই আইনটিকে অবশ্যই 'ন্যায্য, নিরপেক্ষ ও যুক্তিসঙ্গত' (Just, Fair and Reasonable) হতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট ধারা ২১-এর ভেতর ৩৫টিরও বেশি অলিখিত মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে গোপনীয়তার অধিকার (পুট্টাস্বামী, ২০১৭), জরুরি চিকিৎসার অধিকার (পরমানন্দ কাটার, ১৯৮৯), জীবিকা ও বাসস্থানের অধিকার (ওলগা টেলিস, ১৯৮৫), পরিচ্ছন্ন বাতাস ও পানীয় জলের অধিকার, দ্রুত বিচার ও বিনামূল্যে আইনি সহায়তা (হুসেনআরা খাতুন, ১৯৭৯), বিনা কারণে হাতকড়া পরানো ও হেফাজতে নির্যাতন থেকে মুক্তি এবং মর্যাদার সাথে মৃত্যুর অধিকার (Living Will)।
শুরুতে শিক্ষার বিষয়টি নির্দেশমূলক নীতিতে (ধারা ৪৫) থাকলেও, 'উন্নি কৃষ্ণন (১৯৯৩)' রায়ের পর সংসদ ২০০২ সালে ৮৬তম সংবিধান সংশোধনী পাস করে ধারা ২১A-কে সরাসরি মৌলিক অধিকারে উন্নীত করে। একে বাস্তবায়িত করতে প্রণীত হয় 'শিক্ষার অধিকার আইন (RTE Act), ২০০৯'। এখানে 'বিনামূল্যে' শব্দের অর্থ হলো সরকারি স্কুলে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী কোনো শিশুর কাছ থেকে টিউশন ফি, বইপত্র, পোশাক বা মিড-ডে মিলের জন্য কোনো অর্থ নেওয়া যাবে না। আর 'বাধ্যতামূলক' শব্দের মাধ্যমে সরকারের ওপর আইনি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে যেন প্রতিটি পাড়ার ১ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে উপযুক্ত স্কুল থাকে এবং সমস্ত বেসরকারি (প্রাইভেট) স্কুলের প্রারম্ভিক শ্রেণিতে ২৫% আসন দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া (EWS/DG) পরিবারের শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংরক্ষিত থাকে।
ধারা ২২ হলো থানার ভেতরে সাধারণ নাগরিকের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। এটি নিশ্চিত করে যে পুলিশ 'জিজ্ঞাসাবাদের' অজুহাতে কাউকে গোপনে তুলে নিয়ে গিয়ে অনির্দিষ্টকাল লকআপে আটকে রাখতে পারবে না। ধারা ২২(১) এবং ২২(২) প্রতিটি সাধারণ গ্রেফতারের ক্ষেত্রে তিনটি অলঙ্ঘনীয় নিয়ম বেঁধে দিয়েছে: ১. গ্রেফতারের কারণ জানার অধিকার (ধারা ২২(১)): গ্রেফতারের সাথে সাথে পুলিশকে অবশ্যই জানাতে হবে কোন অপরাধে ও কী কারণে আপনাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে (সুপ্রিম কোর্টের পঙ্কজ বনসল ২০২৩ ও প্রবীর পুরকায়স্থ ২০২৪ রায় অনুযায়ী লিখিতভাবে কারণ জানানো বাধ্যতামূলক)। ২. পছন্দের আইনজীবীর পরামর্শ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার (ধারা ২২(১)): হেফাজতে নেওয়ার প্রথম মুহূর্ত থেকেই নিজের আইনজীবীর সাথে কথা বলার পূর্ণ অধিকার আপনার রয়েছে। ৩. ২৪ ঘণ্টার ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ম (ধারা ২২(২)): গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যাতায়াতের সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটবর্তী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা বাধ্যতামূলক। ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত আদেশ ছাড়া ২৪ ঘণ্টার বেশি থানায় আটকে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি আটক (Illegal Detention)। এছাড়া ধারা ২২(৪)–২২(৭) নিবর্তনমূলক আটক (Preventive Detention)-এর ক্ষেত্রেও কড়া শর্ত আরোপ করে: হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত অ্যাডভাইজরি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কাউকে ৩ মাসের বেশি আটক রাখা যায় না।
অনুচ্ছেদ ২৩ ক্রীতদাস প্রথা, মানব পাচার এবং জবরদস্তিমূলক শ্রমের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম টাকা দিয়ে কাউকে কাজ করানো বা ঋণের দায়ে আটকে রাখা সংবিধানে দণ্ডনীয় অপরাধ।
অনুচ্ছেদ ২৪ শিশু অধিকারের রক্ষাকবচ। এটি ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিপজ্জনক কাজ ও কলকারখানায় খাটানো নিষিদ্ধ করে। শিশুদের স্কুলে যাওয়ার অধিকার সুরক্ষিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
অনুচ্ছেদ ২৫ ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতার মূল ভিত্তি। এটি প্রতিটি ব্যক্তিকে তার নিজস্ব বিবেক ও বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেয়। ভারত রাষ্ট্র সকল ধর্মকে সমদৃষ্টিতে দেখে ও সমান আইনি সুরক্ষা দেয়।
ধারা ২৫ যেখানে ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করে, ধারা ২৬ সেখানে ধর্মীয় সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর সমষ্টিগত অধিকার রক্ষা করে। জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যের সাপেক্ষে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন, নিজস্ব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি পরিচালনার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
ধারা ২৭ হলো ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতার আর্থিক স্তম্ভ। এটি নিশ্চিত করে যে সকল ধর্মের নাগরিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত সরকারি করের টাকা কোনো একটি বিশেষ ধর্মের প্রচার বা পোষণের জন্য বরাদ্দ করা যাবে না। তবে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সংগৃহীত 'পরিষেবা ফি' (Fee) কর হিসেবে গণ্য হয় না।
ধারা ২৮ শ্রেণিকক্ষকে ধর্মনিরপেক্ষ ও সর্বজনীন রাখে। ধারা ২৮(১) অনুযায়ী, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না। ধারা ২৮(৩) অনুযায়ী, রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কোনো স্কুলে কোনো শিক্ষার্থীকে তার (বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে তার অভিভাবকের) সম্মতি ছাড়া কোনো ধর্মীয় উপাসনা বা ধর্মীয় ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য করা যাবে না।
ধারা ২৯ ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রধান রক্ষাকবচ। ধারা ২৯(১) অনুযায়ী, ভারতের যেকোনো অংশে বসবাসকারী নাগরিকদের যেকোনো গোষ্ঠীর নিজস্ব স্বতন্ত্র ভাষা, লিপি বা সংস্কৃতি থাকলে তা সংরক্ষণ করার পূর্ণ মৌলিক অধিকার রয়েছে। ধারা ২৯(২) স্পষ্ট করে যে সরকারি বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেবল ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা ভাষার ভিত্তিতে কোনো নাগরিককে ভর্তি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
ধারা ৩০ ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ভাষাগত সংখ্যালঘু (যেমন মহারাষ্ট্রে বা দিল্লিতে বাংলাভাষী নাগরিক)-দের শিক্ষাগত অধিকারের প্রধান সনদ। ধারা ৩০(১) অনুযায়ী সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ) স্থাপন ও পরিচালনার মৌলিক অধিকার রয়েছে। ধারা ৩০(২) অনুযায়ী সরকারি অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো বৈষম্য করতে পারবে না।
অনুচ্ছেদ 31 (সম্পত্তির বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ (৪৪তম সংশোধনী দ্বারা রদকৃত)) সংবিধানের Part III-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু সংসদ সংবিধান (Forty-fourth Amendment (1978)) আইন দ্বারা এটি বাতিল (Omitted/Repealed) করেছে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও ঐতিহাসিক রেফারেন্সের জন্য মূল সংহিতায় এর ক্রমিক নম্বরটি সংরক্ষিত রয়েছে।
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 31A 'জমিদারি বা সম্পত্তি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আইনের সুরক্ষা' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 31B 'নির্দিষ্ট কিছু আইন ও প্রবিধানের বৈধকরণ (নবম তফসিল)' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 31C 'নির্দেশমূলক নীতিসমূহ কার্যকর করার জন্য প্রণীত আইনের সুরক্ষা' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
অনুচ্ছেদ 31D (দেশবিরোধী কার্যকলাপ সংক্রান্ত আইনের সুরক্ষা (রদকৃত)) সংবিধানের Part III-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু সংসদ সংবিধান (Forty-third Amendment (1977)) আইন দ্বারা এটি বাতিল (Omitted/Repealed) করেছে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও ঐতিহাসিক রেফারেন্সের জন্য মূল সংহিতায় এর ক্রমিক নম্বরটি সংরক্ষিত রয়েছে।
১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর গণপরিষদে ড. বি. আর. আম্বেদকর অনুচ্ছেদ ৩২-কে 'সংবিধানের আত্মা ও হৃদয়' বলে অভিহিত করেছিলেন—কারণ মৌলিক অধিকার রক্ষা করার জন্য যদি তাৎক্ষণিক ও নিশ্চিত কোনো বিচারবিভাগীয় প্রতিকার না থাকে, তবে সমস্ত অধিকার কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়। অনুচ্ছেদ ৩২ নিজেই একটি মৌলিক অধিকার। অনুচ্ছেদ ৩২(১) অনুযায়ী মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে যেকোনো ব্যক্তি সরাসরি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারেন এবং সুপ্রিম কোর্ট মৌলিক অধিকারের 'অভিভাবক ও গ্যারান্টার' হিসেবে কাজ করে। অনুচ্ছেদ ৩২(২)-এর অধীনে সুপ্রিম কোর্ট ৫টি বিশেষ রিট (Writs) জারি করতে পারে: (১) হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus - বেআইনি আটক থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি), (২) ম্যান্ডামাস (Mandamus - সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইনানুগ কর্তব্য পালনে বাধ্য করা), (৩) প্রোহিবিশন (Prohibition - নিম্ন আদালতকে এখতিয়ারের বাইরে যাওয়া থেকে থামানো), (৪) সার্টিওরারি (Certiorari - এখতিয়ারবহির্ভূত বা অবৈধ আদেশ বাতিল করা), এবং (৫) কো ওয়ারেন্টো (Quo Warranto - অবৈধভাবে সরকারি পদ দখলকারীকে অপসারণ করা)। এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমেই সুপ্রিম কোর্ট জনস্বার্থ মামলা (PIL), চিঠির মাধ্যমে রিট আবেদন (Epistolary Jurisdiction) এবং পুলিশি অত্যাচার বা বেআইনি আটকের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিককে সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ (Constitutional Compensation) প্রদানের যুগান্তকারী নজির স্থাপন করেছে।
অনুচ্ছেদ 32A (অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে রাজ্য আইনের সাংবিধানিক বৈধতা বিবেচনা না করা (রদকৃত)) সংবিধানের Part III-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু সংসদ সংবিধান (Forty-third Amendment (1977)) আইন দ্বারা এটি বাতিল (Omitted/Repealed) করেছে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও ঐতিহাসিক রেফারেন্সের জন্য মূল সংহিতায় এর ক্রমিক নম্বরটি সংরক্ষিত রয়েছে।
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 33 'সশস্ত্র বাহিনী ইত্যাদির ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার সীমিত বা পরিবর্তন করার সংসদের ক্ষমতা' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 34 'সামরিক আইন (Martial Law) বলবৎ থাকাকালীন মৌলিক অধিকারের ওপর বিধিনিষেধ' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
সংবিধানের ৩য় অংশের (মৌলিক অধিকার) অনুচ্ছেদ 35 'এই ভাগের বিধানসমূহ কার্যকর করার জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, জনকল্যাণমূলক আইনের সুরক্ষা (৩১এ-৩১সি), সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা (৩৩) এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সংসদের একচেটিয়া আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (৩৫) নির্ধারণ করে।
ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭-এর ধারা ৫২(১)(কিউ) অনুযায়ী ভারতের সংবিধান, সংসদের আইন, সরকারি গেজেট এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রায়সমূহ পাবলিক ডোমেইনের (Public Domain) অন্তর্ভুক্ত। এই পাঠ্যটি ভারত সরকারের আইন ও বিচার মন্ত্রকের লেজিসলেটিভ ডিপার্টমেন্টের (India Code) সরকারি আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত।