অনুচ্ছেদ 20
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
ধারা ২০ হলো পুলিশি জুলুম ও প্রাক্তন-তারিখের দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে নাগরিকের অভেদ্য বর্ম। ধারা ২১-এর সাথে এটি এতটাই পবিত্র যে ৪৪তম সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী জাতীয় জরুরি অবস্থার সময়েও এটি কখনো স্থগিত করা যায় না। এর তিনটি প্রধান স্তম্ভ রয়েছে:
১. ধারা ২০(১) — ভূতাপেক্ষ ফৌজদারি আইন থেকে সুরক্ষা (Ex-Post Facto Law): কোনো কাজ করার সময় তা যদি আইনত অপরাধ না হয়ে থাকে, তবে পরে নতুন আইন তৈরি করে সেই পুরোনো কাজের জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না বা তৎকালীন নির্ধারিত সাজার চেয়ে বেশি সাজা দেওয়া যাবে না।
২. ধারা ২০(২) — দ্বৈত দণ্ড থেকে সুরক্ষা (Double Jeopardy): একই অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তিকে আদালতে একাধিকবার বিচার ও দণ্ডিত করা যাবে না।
৩. ধারা ২০(৩) — আত্ম-অভিযুক্তকরণ থেকে মুক্তি (Right against Self-Incrimination): কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। তাই থানায় পুলিশের ভয়ে বা মারধরে দেওয়া স্বীকারোক্তি কিংবা সাদা কাগজে স্বাক্ষর আদালতে সম্পূর্ণ মূল্যহীন।
অনুচ্ছেদ 21
মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III
ধারা ২১ মাত্র একটি বাক্যে লেখা—'আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে তার জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না'—কিন্তু এটি বিশ্বের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্তৃত মানবাধিকার সনদে পরিণত হয়েছে। এতে 'ব্যক্তি' শব্দটি ব্যবহৃত হওয়ায় এটি ভারতীয় নাগরিক ও বিদেশি—উভয়কেই সুরক্ষা দেয়।
১৯৭৮ সালের ঐতিহাসিক 'মেনকা গান্ধী বনাম ভারত সরকার' রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ধারা ১৪, ১৯ ও ২১-কে যুক্ত করে 'স্বর্ণালী ত্রিভুজ' (Golden Triangle) প্রতিষ্ঠা করে। আদালত ঘোষণা করে যে 'জীবন' মানে কেবল পশুর মতো বেঁচে থাকা বা নিঃশ্বাস নেওয়া নয়—এর অর্থ 'পূর্ণ মানবিক মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার'। এছাড়া যে আইনের মাধ্যমে স্বাধীনতা সীমিত করা হবে, সেই আইনটিকে অবশ্যই 'ন্যায্য, নিরপেক্ষ ও যুক্তিসঙ্গত' (Just, Fair and Reasonable) হতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট ধারা ২১-এর ভেতর ৩৫টিরও বেশি অলিখিত মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে গোপনীয়তার অধিকার (পুট্টাস্বামী, ২০১৭), জরুরি চিকিৎসার অধিকার (পরমানন্দ কাটার, ১৯৮৯), জীবিকা ও বাসস্থানের অধিকার (ওলগা টেলিস, ১৯৮৫), পরিচ্ছন্ন বাতাস ও পানীয় জলের অধিকার, দ্রুত বিচার ও বিনামূল্যে আইনি সহায়তা (হুসেনআরা খাতুন, ১৯৭৯), বিনা কারণে হাতকড়া পরানো ও হেফাজতে নির্যাতন থেকে মুক্তি এবং মর্যাদার সাথে মৃত্যুর অধিকার (Living Will)।
ধারা ৪৭ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করে যে জনগণের পুষ্টিমান (Nutrition) ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং জনস্বাস্থ্যের (Public Health) উন্নতি সাধন করা রাষ্ট্রের 'প্রাথমিক কর্তব্যসমূহের' অন্যতম। পাশাপাশি, চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য ও নেশাজাতীয় পানীয় বর্জনের নির্দেশ দেয়। মিড-ডে মিল, অঙ্গনওয়াড়ি পুষ্টি প্রকল্প, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইন (FSSAI) এই ধারার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।
সংবিধানের ৫ম অংশের ২য় অধ্যায়ে (সংসদ) অনুচ্ছেদ 83 'সংসদের উভয় কক্ষের মেয়াদ' পরিচালনা করে। এটি লোকসভা ও রাজ্যসভার গঠন, স্পিকার ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব, সাংসদদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, কোরাম, বিল পাস, বাজেট বরাদ্দ এবং সংসদীয় বিশেষাধিকারের নিয়ম নির্ধারণ করে।
সংবিধানের ৬ষ্ঠ অংশের ৩য় অধ্যায়ে (রাজ্য আইনসভা) অনুচ্ছেদ 172 'রাজ্য আইনসভার মেয়াদ' পরিচালনা করে। এটি রাজ্য বিধানসভা ও বিধান পরিষদের গঠন, বিধায়কদের (MLA) যোগ্যতা-অযোগ্যতা, স্পিকারের দায়িত্ব, রাজ্যের বাজেট ও বিল পাস এবং বিলে সম্মতি প্রদানের (অনুচ্ছেদ ২০০-২০১) নিয়ম নির্ধারণ করে।
সংবিধানের ১১শ অংশের (কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক) অনুচ্ছেদ 250 'জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকাকালীন রাজ্য তালিকার বিষয়ে আইন প্রণয়নের সংসদের ক্ষমতা' পরিচালনা করে। এটি সপ্তম তফসিলের কেন্দ্রীয়, রাজ্য ও যুগ্ম তালিকা অনুযায়ী আইন প্রণয়নের ক্ষমতা, জিএসটি (২৪৬এ), কেন্দ্র-রাজ্য আইনের বিরোধ নিষ্পত্তি (২৫৪), আন্তঃরাজ্য নদী জল বিরোধ (২৬২) এবং আন্তঃরাজ্য পরিষদের (২৬৩) সাংবিধানিক কাঠামো নির্ধারণ করে।
অনুচ্ছেদ ৩৫২ জাতীয় জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার তিক্ত অভিজ্ঞতার পর ৪৪তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এতে কড়া সুরক্ষাকবচ যুক্ত করা হয়: শুধুমাত্র সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভার লিখিত পরামর্শে এটি জারি হতে পারে এবং ১ মাসের মধ্যে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন আবশ্যক।
সংবিধানের ১৮শ অংশের (জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান) অনুচ্ছেদ 353 'জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রভাব' নির্ধারণ করে। এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা (৩৫২-৩৫৪), রাজ্যকে রক্ষার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব (৩৫৫), রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন (৩৫৬-৩৫৭), মৌলিক অধিকারের অবস্থান (৩৫৮-৩৫৯) এবং আর্থিক জরুরি অবস্থা (৩৬০) পরিচালনা করে। ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর (১৯৭৮) পর জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) কখনোই স্থগিত করা যায় না।
সংবিধানের ১৮শ অংশের (জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান) অনুচ্ছেদ 354 'জরুরি অবস্থা চলাকালীন রাজস্ব বণ্টন সংক্রান্ত বিধানের প্রয়োগ' নির্ধারণ করে। এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা (৩৫২-৩৫৪), রাজ্যকে রক্ষার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব (৩৫৫), রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন (৩৫৬-৩৫৭), মৌলিক অধিকারের অবস্থান (৩৫৮-৩৫৯) এবং আর্থিক জরুরি অবস্থা (৩৬০) পরিচালনা করে। ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর (১৯৭৮) পর জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) কখনোই স্থগিত করা যায় না।
সংবিধানের ১৮শ অংশের (জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান) অনুচ্ছেদ 355 'বহিঃশত্রুর আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ গোলযোগ থেকে রাজ্যকে রক্ষা করার ইউনিয়নের কর্তব্য' নির্ধারণ করে। এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা (৩৫২-৩৫৪), রাজ্যকে রক্ষার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব (৩৫৫), রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন (৩৫৬-৩৫৭), মৌলিক অধিকারের অবস্থান (৩৫৮-৩৫৯) এবং আর্থিক জরুরি অবস্থা (৩৬০) পরিচালনা করে। ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর (১৯৭৮) পর জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) কখনোই স্থগিত করা যায় না।
অনুচ্ছেদ ৩৫৬ রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির ক্ষমতা প্রদান করে। অতীতে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলের নির্বাচিত সরকার ফেলে দেওয়ার জন্য এর অপব্যবহার হতো। সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতির ঐতিহাসিক 'এস.আর. বোম্মাই (১৯৯৪)' রায় স্পষ্ট করে দেয় যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাই কেবল বিধানসভার ভেতরেই হতে হবে এবং বেআইনিভাবে বরখাস্ত সরকার আদালত পুনর্বহাল করতে পারে।
সংবিধানের ১৮শ অংশের (জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান) অনুচ্ছেদ 357 'অনুচ্ছেদ ৩৫৬-এর অধীনে জারি করা ঘোষণার অধীনে আইন প্রণয়ন ক্ষমতার প্রয়োগ' নির্ধারণ করে। এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা (৩৫২-৩৫৪), রাজ্যকে রক্ষার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব (৩৫৫), রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন (৩৫৬-৩৫৭), মৌলিক অধিকারের অবস্থান (৩৫৮-৩৫৯) এবং আর্থিক জরুরি অবস্থা (৩৬০) পরিচালনা করে। ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর (১৯৭৮) পর জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) কখনোই স্থগিত করা যায় না।
সংবিধানের ১৮শ অংশের (জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান) অনুচ্ছেদ 358 'জরুরি অবস্থা চলাকালীন অনুচ্ছেদ ১৯-এর বিধানসমূহ স্থগিতকরণ' নির্ধারণ করে। এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা (৩৫২-৩৫৪), রাজ্যকে রক্ষার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব (৩৫৫), রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন (৩৫৬-৩৫৭), মৌলিক অধিকারের অবস্থান (৩৫৮-৩৫৯) এবং আর্থিক জরুরি অবস্থা (৩৬০) পরিচালনা করে। ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর (১৯৭৮) পর জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) কখনোই স্থগিত করা যায় না।
সংবিধানের ১৮শ অংশের (জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান) অনুচ্ছেদ 359 'জরুরি অবস্থা চলাকালীন তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ বলবৎ স্থগিতকরণ (অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ ব্যতীত)' নির্ধারণ করে। এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা (৩৫২-৩৫৪), রাজ্যকে রক্ষার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব (৩৫৫), রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন (৩৫৬-৩৫৭), মৌলিক অধিকারের অবস্থান (৩৫৮-৩৫৯) এবং আর্থিক জরুরি অবস্থা (৩৬০) পরিচালনা করে। ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর (১৯৭৮) পর জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) কখনোই স্থগিত করা যায় না।
সংবিধানের ১৮শ অংশের (জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান) অনুচ্ছেদ 360 'আর্থিক জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান (Financial Emergency)' নির্ধারণ করে। এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা (৩৫২-৩৫৪), রাজ্যকে রক্ষার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব (৩৫৫), রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন (৩৫৬-৩৫৭), মৌলিক অধিকারের অবস্থান (৩৫৮-৩৫৯) এবং আর্থিক জরুরি অবস্থা (৩৬০) পরিচালনা করে। ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর (১৯৭৮) পর জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) কখনোই স্থগিত করা যায় না।
সংবিধানের ১৯শ অংশের (বিবিধ) অনুচ্ছেদ 366 'সাংবিধানিক সংজ্ঞাসমূহ' পরিচালনা করে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের পদের মেয়াদে কার্যগত দায়মুক্তি (কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে নাগরিকের মামলা করার অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে - ৩৬১), সংসদ ও বিধানসভার সত্য কার্যবিধি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের স্বাধীনতা (৩৬১এ), রাজন্যভাতা বা প্রিভি পার্স বিলোপ (৩৬৩এ) এবং সংবিধানের মূল সংজ্ঞাসমূহ (৩৬৬-৩৬৭) অন্তর্ভুক্ত।