ডিভোর্সের সময় সন্তানের কাস্টডি: ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর কাস্টডি আইনত কার কাছে থাকে?
আইন অনুযায়ী ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর কাস্টডি সাধারণত মায়ের কাছেই থাকবে। আদালতের কাছে বাবা-মায়ের দাবির চেয়ে "শিশুর সার্বিক কল্যাণ" (Welfare of Child) সবসময় অগ্রাধিকার পায়।
- • ১. ৫ বছরের নিচের শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মায়ের কাছে থাকার আইনি অগ্রাধিকার রয়েছে।
- • ২. আদালতের নির্দেশ ছাড়া বাবা বা আত্মীয়রা জোর করে শিশুকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে না।
- • ৩. অপর অভিভাবক নিয়মিত দেখা করার (Visitation Rights) ও ভিডিও কলে কথা বলার আইনি অধিকার রাখেন।
- ১. সন্তানকে জোর করে কেড়ে নিলে হাইকোর্টে অবিলম্বে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করুন।
- ২. গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইনের ২১ ধারায় অন্তর্বর্তীকালীন কাস্টডি চেয়ে আবেদন করুন।
- ৩. ফ্যামিলি কোর্টে বাচ্চার স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তুলে ধরে স্থায়ী কাস্টডির মামলা করুন।
- ৪. সন্তানের মানসিক মঙ্গলের জন্য অপর অভিভাবকের সাথে নিয়মিত দেখা করার সময়সূচী নির্ধারণ করুন।
মৃতদেহের মর্যাদার অধিকার: প্রতিটি মৃত নাগরিকের কি সম্মানজনক শেষকৃত্যের সাংবিধানिक অধিকার রয়েছে?
হ্যাঁ! সুপ্রিম কোর্টের পরমানন্দ কাটারার রায় অনুযায়ী অনুচ্ছেদ ২১-এর অধীনে বাঁচার মর্যাদার অধিকার মৃত্যুর পরেও বলবৎ থাকে। ধর্মমত অনুযায়ী মৃতদেহের সম্মানজনক শেষকৃত্য পাওয়া প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
- • ১. কোনো হাসপাতাল, মর্গ বা শ্মশান কর্তৃপক্ষ বকেয়া টাকার জন্য মৃতদেহ আটকে রাখতে পারে না।
- • ২. মৃতদেহের প্রতি অমর্যাদা বা অবমাননা BNS ৩০১ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ।
- • ৩. অজ্ঞাতপরিচয় বা দরিদ্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ শেষকৃত্য সম্পন্ন করা পুরসভার আইনি কর্তব্য।
- ১. শ্মশান বা কবরস্থানে অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে প্রমাণ সহ পুরসভা কমিশনারকে জানান।
- ২. বকেয়া বিলের অজুহাতে হাসপাতাল মরদেহ আটকে রাখলে তৎক্ষণাৎ ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা নিন।
- ৩. মৃতদেহ দ্রুত পরিবারের হাতে পেতে হাইকোর্টের জরুরি বেঞ্চে আবেদন করুন।
- ৪. মৃতদেহের অমর্যাদার বিরুদ্ধে মানবাধিকার কমিশনে ক্ষতিপূরণের নালিশ জানান।
রূপান্তরকামী (Transgender) নাগরিকদের অধিকার: চাকরি, শিক্ষা বা বাড়িভাড়ায় কি বৈষম্য করা যায়?
সম্পূর্ণ বেআইনি! রূপান্তরকামী ব্যক্তি অধিকার সুরক্ষা আইন ২০১৯ ও নালসা (NALSA) রায় অনুযায়ী রূপান্তরকামী নাগরিকদের চাকরি, বাড়িভাড়া বা নাগরিক অধিকারে বৈষম্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- • ১. কোনো প্রতিষ্ঠান লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে চাকরি দিতে অস্বীকার বা বরখাস্ত করতে পারে না।
- • ২. প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সমান সুযোগ নীতি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কমপ্লেন্ট অফিসার থাকা বাধ্যতামূলক।
- • ৩. বাড়িভাড়া দিতে অস্বীকার বা জোরপূর্বক উচ্ছেদ করলে ১৮ ধারায় ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
- ১. জাতীয় রূপান্তরকামী পোর্টাল থেকে অফিশিয়াল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করুন।
- ২. বৈষম্যের শিকার হলে প্রতিষ্ঠানের কমপ্লেন্ট অফিসারের কাছে লিখিত নালিশ জানান।
- ৩. জেলাশাসকের (DM) দপ্তরে ১৯ ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করুন।
- ৪. সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২৬ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করুন।
ভিন্ন ধর্মের বিবাহ: প্রাপ্তবয়স্ক যুগলকে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ে করতে কি পুলিশ বা পরিবার আটকাতে পারে?
সম্পূর্ণ বেআইনি! সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের নিজের পছন্দে বিয়ে করার পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। কোনো পুলিশ বা স্বজন এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- • ১. স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে ধর্ম পরিবর্তন না করেই দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক আইনি বিবাহ করতে পারেন।
- • ২. নারী স্বেচ্ছায় বিয়ে করলে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণের মিথ্যা মামলা পুলিশ নিতে পারে না।
- • ৩. নিরাপত্তার হুমকিতে থাকা দম্পতিকে সুরক্ষিত আশ্রয় ও পুলিশি পাহারা দিতে রাজ্য সরকার বাধ্য।
- ১. বিবাহ রেজিস্ট্রারের (SDM) কাছে ৩০ দিনের নোটিশ জমা দিন।
- ২. আত্মীয়দের থেকে প্রাণনাশের হুমকি থাকলে হাইকোর্টে পুলিশি সুরক্ষার আবেদন করুন।
- ৩. ৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষীর উপস্থিতিতে আইনি ম্যারেজ সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রি করুন।
- ৪. বিপদে পড়লে ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশি নিরাপত্তার সাহায্য নিন।
ধারা ১৪৪-এ কি খেয়ালখুশিমতো ইন্টারনেট বন্ধ করা যায়?
একদমই না! সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক অনুরাধা ভাসিন (২০২০) রায় অনুযায়ী ইন্টারনেটের মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও পেশা পরিচালনা অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ক) ও ১৯(১)(ছ)-এর অধীনে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকার। খেয়ালখুশিমতো ইন্টারনেট বন্ধ করা বেআইনি ও অসাংবিধানিক।
- • ১. ইন্টারনেটের মৌলিক অধিকার: সুপ্রিম কোর্ট অনুরাধা ভাসিন (২০২০) মামলায় রায় দিয়েছে যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও ব্যবসা পরিচালনা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ক) ও ১৯(১)(ছ)-এর অধীনে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকার।
- • ২. আনুপাতিকতার কড়া পরীক্ষা: নিছক আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে বা পরীক্ষায় টুকলি রোখার মতো সাধারণ কারণে খেয়ালখুশিমতো ইন্টারনেট বন্ধ করা চরম অসাংবিধানিক ও বেআইনি।
- • ৩. সরকারি আদেশ জনসমক্ষে প্রকাশ বাধ্যতামূলক: দূরসংযোগ স্থগিতাদেশ বিধিমালা ২০১৭ অনুযায়ী লিখিত আদেশ অবিলম্বে বিজ্ঞাপিত করতে হবে, যাতে নাগরিকরা হাইকোর্টে রিট আবেদন করতে পারেন।
- • ৪. সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মেয়াদ: ২০২০ সালের সংশোধিত বিধিমালা অনুসারে কোনো স্থগিতাদেশ একনাগাড়ে ১৫ দিনের বেশি বলবৎ থাকতে পারে না এবং ৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিভিউ কমিটির অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
- ১. স্বরাষ্ট্র সচিব কর্তৃক জারিকৃত সরকারি লিখিত বিজ্ঞপ্তির কপি যাচাই করুন এবং তাতে জরুরি কারণ দর্শানো হয়েছে কিনা দেখুন।
- ২. ইউপিআই পেমেন্ট, জরুরি চিকিৎসা বা অনলাইন পড়াশোনায় বাধার প্রমাণ নথিবদ্ধ করে রাখুন।
- ৩. মনগড়া বা বেআইনি ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের বিরুদ্ধে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২৬-এর অধীনে অবিলম্বে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করুন।