গুরুতর অপরাধে পুলিশ যদি এফআইআর নিতে অস্বীকার করে তবে কী করবেন?
অপরাধ। এফআইআর নিতে অস্বীকারকারী অফিসারের ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
- • ললিতা কুমারী মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এফআইআর নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।
- লিখিত অভিযোগের রিসিভিং কপি রাখুন এবং এসপি বা আদালতে জানান।
গ্রেফতারির সময় অ্যারেস্ট মেমোতে কি কোনো স্থানীয় সাক্ষী বা পরিবারের সই বাধ্যতামূলক?
বাধ্যতামূলক। ধারা ৪১B অনুযায়ী অ্যারেস্ট মেমোতে পরিবারের সদস্য বা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির সাক্ষ্য সই থাকা বাধ্যতামূলক।
- • অ্যারেস্ট মেমোতে গ্রেফতারের সঠিক সময় ও দিন লিপিবদ্ধ থাকতে হবে।
- বলুন: 'অ্যারেস্ট মেমো তৈরি করে সাক্ষীর সই নিন।'
পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় ডাক্তারি পরীক্ষা করানো কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, বাধ্যতামূলক। গ্রেফতারের সময় এবং প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় সরকারি ডাক্তার দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক।
- • মেডিকেল রিপোর্ট প্রমাণ করে যে হেফাজতে মারধর করা হয়েছে কি না।
- ডাক্তারকে সমস্ত আঘাত দেখিয়ে রিপোর্টে নথিভুক্ত করান।
২৪ ঘণ্টার বেশি থানায় আটকে রাখা: কখন পুলিশ হেফাজত বেআইনি বন্দিদশা হয়ে ওঠে?
সম্পূর্ণ বেআইনি! সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২(২) এবং বিএনএসএস-এর ৫৮ ধারা অনুযায়ী পুলিশকে যেকোনো আটক ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করতে হবে। এর অন্যথা হলে তা বেআইনি বন্দিদশা হিসেবে গণ্য।
- • ১. পুলিশ কাউকে শারীরিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মুহূর্ত থেকেই ২৪ ঘণ্টার সময় গণনা শুরু হয়।
- • ২. ম্যাজিস্ট্রেটের রিমান্ড নির্দেশ ছাড়া ২৪ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখা সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
- • ৩. পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus) রিট পিটিশন দাখিল করতে পারেন।
- ১. থানায় প্রবেশের সঠিক সময় জেনারেল ডায়েরিতে (GD) নথিভুক্ত করার জন্য দাবি জানান।
- ২. পরিবারকে দিয়ে জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে (CJM) বেআইনি আটকের আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠান।
- ৩. আইনজীবীর সহায়তায় হাইকোর্টে জরুরি হেবিয়াস কর্পাস রিট মামলা দাখিল করুন।
- ৪. দায়ী পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনে ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করুন।
পুলিশের ঘর তল্লাশি: মহিলা কনস্টেবল ছাড়া কি পুরুষ পুলিশ মহিলারা অবস্থানরত ঘরে ঢুকতে পারে?
না! বিএনএসএস-এর ১০৩ ধারা অনুযায়ী নারীদের ব্যক্তিগত ঘর তল্লাশির আগে তাদের সরে যাওয়ার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে এবং তল্লাশি অবশ্যই মহিলা পুলিশের উপস্থিতিতে শালীনতা বজায় রেখে সম্পন্ন করতে হবে।
- • ১. মহিলা পুলিশকর্মী ছাড়া পুরুষ পুলিশ কোনো নারীর শোবার ঘরে বা ব্যক্তিগত জায়গায় জোরপূর্বক ঢুকতে পারে না।
- • ২. ঘরে প্রবেশের পূর্বে নারীদের শালীনতা রক্ষা ও সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- • ৩. কোনো নারীর দেহ তল্লাশি কেবল এবং কেবল আরেকজন নারী পুলিশ দ্বারাই শালীনতার সাথে করা যাবে।
- ১. দরজার ওপাশ থেকে বলুন: "আপনার সার্চ ওয়ারেন্ট দেখান এবং সাথে মহিলা পুলিশ আছে কিনা জানান।\"
- ২. বলুন: "আইন অনুযায়ী মহিলা কনস্টেবল ছাড়া পুরুষ অফিসাররা মহিলাদের ঘরে তল্লাশি চালাতে পারেন না।\"
- ৩. তল্লাশির সময় নিরপেক্ষ সাক্ষী হিসেবে দুজন প্রতিবেশীকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান।
- ৪. জোরজবরদস্তি করলে ফোনে ১১২ ডায়াল করে নারী নির্যাতনের আনুষ্ঠানিক নালিশ জানান।
তল্লাশির সময় পুলিশ ল্যাপটপ বা টাকা জব্দ করলে: ঘটনাস্থলেই কি সই করা সিজার মেমো দেওয়া বাধ্যতামূলক?
বাধ্যতামূলক! বিএনএসএস-এর ১০৫ ধারা অনুযায়ী যেকোনো জিনিস বা ডিজিটাল ডিভাইস জব্দের সময় পুলিশকে দুজন নিরপেক্ষ সাক্ষীর সই সহ সিজার মেমো তৈরি করে বিনামূল্যে এক কপি তৎক্ষণাৎ দিতে হবে।
- • ১. অনানুষ্ঠানিকভাবে বা রসিদ ছাড়া কোনো ফোন, ল্যাপটপ বা নগদ টাকা পুলিশ তুলে নিয়ে যেতে পারে না।
- • ২. সিজার মেমোতে পণ্যের সঠিক ক্রমিক নম্বর (Serial Number) ও আইএমইআই নম্বর লিপিবদ্ধ করতে হবে।
- • ৩. ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষেত্রে তথ্য বিকৃতি রোধ করতে হ্যাশ ভ্যালু (Hash Value) উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
- ১. অফিসারকে বলুন: "বিএনএসএস ১০৫ ধারা মোতাবেক জিনিস নেওয়ার পূর্বে সিজার মেমো প্রস্তুত করে সই দিন।\"
- ২. দুজন স্থানীয় নিরপেক্ষ নাগরিককে পঞ্চসাক্ষী হিসেবে সই করতে বলুন।
- ৩. ঘটনাস্থলেই আইও-র সই করা রসিদের একটি অনুলিপি সংগ্রহ করে রাখুন।
- ৪. মেমো ছাড়া জিনিস নিলে পুলিশ সুপার (SP) ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এফআইআর দায়ের করুন।
থানায় মারধর বা হেনস্থা: পুলিশি অত্যাচারের প্রমাণে সিসিটিভি ফুটেজ কি পাওয়া সম্ভব?
হ্যাঁ! সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায় অনুযায়ী ভারতের প্রতিটি থানার লকআপ ও তদন্ত কক্ষে নাইট ভিশন ও অডিও সহ সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা এবং ১৮ মাস পর্যন্ত ফুটেজ সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
- • ১. থানার প্রবেশদ্বার, লকআপ, করিডোর ও ডিউটি অফিসারের রুমে অডিও সহ সিসিটিভি থাকা আইনত বাধ্যতামূলক।
- • ২. এই ফুটেজ ১৮ মাস পর্যন্ত অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষণ করতে হবে।
- • ৩. পুলিশি অত্যাচারের সময় ক্যামেরা "নষ্ট ছিল" বললে আদালত পুলিশের বিরুদ্ধেই অপরাধের প্রমাণ ধরে নেয়।
- ১. থানার নির্দিষ্ট ঘর, তারিখ ও সময় সঠিকভাবে ডায়েরিতে লিখে রাখুন।
- ২. জেলা পুলিশ সুপার ও ম্যাজিস্ট্রেটকে চিঠি দিন: "সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক সিসিটিভি ফুটেজ অবিলম্বে প্রিজার্ভ করুন।\"
- ৩. রাজ্য মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ কমপ্লেন্টস অথরিটিতে অভিযোগ জানান।
- ৪. হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে থানার সিসিটিভি ডিভিআর বাজেয়াপ্ত করার আদেশ আদায় করুন।
পুলিশ গ্রেপ্তার করলে: পরিবার বা আইনজীবীকে অবিলম্বে জানানোর বাধ্যবাধকতা কি পুলিশের রয়েছে?
বাধ্যতামূলক! বিএনএসএস-এর ৪৮ ধারা ও ডি কে বসু নির্দেশিকা অনুযায়ী গ্রেপ্তারকারী অফিসারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পরিবার, বন্ধু বা আইনজীবীকে গ্রেপ্তারের খবর ও থানার নাম জানাতে হবে।
- • ১. গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ অফিসারের উর্দি ও নেমব্যাজ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকা আবশ্যক।
- • ২. আত্মীয় দূরবর্তী এলাকায় থাকলে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোনে খবর পৌঁছাতে হবে।
- • ৩. থানার রেজিস্টারে আত্মীয়ের নাম ও খবর পাঠানোর সঠিক সময় নথিভুক্ত করতে হবে।
- ১. অফিসারকে সরাসরি বলুন: "বিএনএসএস ৪৮ ধারা অনুযায়ী অবিলম্বে আমার পরিবারকে [নাম ও ফোন নম্বর] কল করে জানান।\"
- ২. আইনজীবী উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকার অধিকার প্রয়োগ করুন।
- ৩. অ্যারোস্ট মেমোতে স্বজনের নাম ও সময় উল্লেখ করা হয়েছে কিনা যাচাই করুন।
- ৪. ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে প্রথম হাজিরার সময় পুলিশি গোপনীয়তার কথা প্রকাশ করুন।