পুলিশ কি রাস্তায় আপনার মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ বা গ্যালারি তল্লাশি করতে পারে?
না! কোনো আদালতের ওয়ারেন্ট বা নির্দিষ্ট এফআইআর ছাড়া পুলিশ রাস্তায় আপনার ফোন বা চ্যাট দেখতে পারে না।
- • সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক পুট্টাস্বামী মামলায় (২০১৭) প্রাইভেসি বা গোপনীয়তাকে অনুচ্ছেদ ২১-এর অধীনে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে।
- • রাস্তায় সাধারণ চেকিংয়ের নামে পুলিশ পাসওয়ার্ড চাইতে বা হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত বার্তা পড়তে পারে না।
- • ডিজিটাল ডিভাইস কেবল আদালতের ওয়ারেন্ট বা সুনির্দিষ্ট মামলায় আইন অনুযায়ী জব্দ করা যেতে পারে।
- ভদ্রভাবে বলুন: "স্যার, অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী আমার ফোনে ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। আপনার কাছে কি সার্চ ওয়ারেন্ট আছে?"
- মৌখিক চাপে আপনার পাসওয়ার্ড বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেবেন না।
- থানার বড়বাবু (SHO) বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান।
- মানবাধিকার কমিশন বা পুলিশ কমপ্লেইন্টস অথরিটিতে অভিযোগ জানান।
অননুমোদিত ব্যাংক জালিয়াতির ক্ষেত্রে আপনার আর্থিক দায় কতটুকু?
শূন্য দায়! ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাংকে অননুমোদিত জালিয়াতির তথ্য জানালে আপনার কোনো আর্থিক দায় থাকবে না।
- • ৩ দিনের মধ্যে জানালে ১০০% টাকা ফেরত পাওয়ার নিয়ম এবং ১০ দিনে শ্যাডো ক্রেডিট দিতে হয়।
- অবিলম্বে কার্ড ব্লক করুন এবং ১৯৩০ সাইবার হেল্পলাইনে জানান।
অনলাইন লোন অ্যাপ কি কন্টাক্ট হ্যাক করে বিকৃত ছবি দিয়ে পরিবারকে ব্ল্যাকমেল করতে পারে?
গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। আরবিআই লোন অ্যাপের কন্টাক্ট বা গ্যালারি অ্যাক্সেস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
- • ফোন কন্টাক্ট বা ছবি অ্যাক্সেস চাওয়া আরবিআই বিধির পরিপন্থী।
- টাকা দেবেন না। cybercrime.gov.in ও ১৯৩০-এ অভিযোগ করুন।
কেউ ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁস করার হুমকি দিলে আপনার কী আইনি প্রতিকার আছে?
জামিন-অযোগ্য অপরাধ। সম্মতি ছাড়া ছবি প্রকাশ বা ব্ল্যাকমেল করলে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
- • আইটি রুল অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ছবি মুছে ফেলতে হবে।
- প্রমাণ মুছবেন না, cybercrime.gov.in-এ অভিযোগ জানান।
গ্রুপের অন্য সদস্যের আপত্তিকর মেসেজের জন্য কি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাডমিনকে দায়ী করা যায়?
না। বিভিন্ন হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে গ্রুপের সদস্যের পোস্টের জন্য অ্যাডমিনকে দায়ী করা যায় না।
- • অ্যাডমিন নিজে বেআইনি পোস্ট না করলে তাকে গ্রেফতার করা যায় না।
- আপত্তিকর সদস্যকে সরিয়ে দিন এবং হাইকোর্টে এফআইআর বাতিলের আবেদন জানান।
সিম সোয়াপ জালিয়াতির কারণে হঠাৎ মোবাইল নেটওয়ার্ক চলে গেলে কী করবেন?
জরুরি সতর্কতা: ট্রাই ও ডট বিধি অনুযায়ী নতুন সিম সক্রিয় হলেও ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এসএমএস বন্ধ থাকে যাতে ওটিপি চুরি হতে না পারে।
- • হঠাৎ নেটওয়ার্ক উধাও হলে তৎক্ষণাৎ কাস্টমার কেয়ারে জানিয়ে সিম লক করুন।
- অন্য ফোন থেকে ফোন করে সিম বন্ধ করুন এবং ১৯৩০-এ সাইবার অভিযোগ জানান।
অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য: কোম্পানিকে কি আপনার ফোন নম্বর ও ডেটা মুছে ফেলতে বাধ্য করতে পারেন?
হ্যাঁ! ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট ২০২৩-এর ১২ ধারা অনুযায়ী যেকোনো নাগরিক নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ও ফোন নম্বর যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার আইনি অধিকার রাখেন।
- • ১. প্রতিটি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটকে ব্যবহারকারীর ডেটা ডিলিট করার সহজ ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক।
- • ২. আবেদন পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারকারীর যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য সার্ভার থেকে অপসারণ করতে হবে।
- • ৩. এই আইন লঙ্ঘনকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ডেটা সুরক্ষা বোর্ড সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে।
- ১. সংশ্লিষ্ট অ্যাপের সেটিংসে গিয়ে অ্যাকাউন্ট ও ডেটা ডিলিটের আবেদন জমা দিন।
- ২. প্রতিষ্ঠানের ডেটা প্রোটেকশন অফিসারকে (DPO) আইনের ১২ ধারা উল্লেখ করে ইমেল পাঠান।
- ৩. ইমেলে লিখুন: "আমি সম্মতি প্রত্যাহার করছি, আমার সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হোক।\"
- ৪. ৩০ দিনের মধ্যে সমাধান না হলে ডেটা প্রটেকশন বোর্ডের সরকারি পোর্টালে অনলাইন অভিযোগ দায়ের করুন।
অনুমতি ছাড়া এআই ডিপফেক বা ভয়েস ক্লোন ভিডিও তৈরি: অপসারণ ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার উপায় কী?
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬D ধারা এবং বিএনএস অনুযায়ী কারো অনুমতি ছাড়া এআই ডিপফেক বা ভয়েস ক্লোন তৈরি করে প্রতারণা বা মানহানি করা জামিন অযোগ্য অপরাধ, যাতে ৭ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
- • ১. সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো অভিযোগ পাওয়ার ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ডিপফেক সামগ্রী মুছে ফেলতে বাধ্য।
- • ২. আপত্তিকর বা অশ্লীল ডিপফেক তৈরি করা আইটি আইনের ৬৭A ধারায় কড়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- • ৩. কণ্ঠস্বর নকল করে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া গুরুতর প্রতারণা।
- ১. ডিপফেক কনটেন্টের ওয়েব লিঙ্ক ও স্ক্রিনশট অবিলম্বে ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করুন।
- ২. জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টাল (cybercrime.gov.in) অথবা ১৯৩০ নম্বরে ফোন করে রিপোর্ট করুন।
- ৩. সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের গ্রিভেন্স অফিসারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কনটেন্ট ডিলিটের নোটিশ দিন।
- ৪. সাইবার পুলিশ স্টেশনে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬D ধারায় এফআইআর দায়ের করুন।