ট্রাফিক পুলিশ কি আপনার বাইক বা গাড়ির চাবি জোর করে ছিনিয়ে নিতে পারে?
না! কোনো পুলিশ অফিসারের গাড়ি থেকে চাবি কেড়ে নেওয়া বা টায়ার থেকে হাওয়া বের করে দেওয়ার কোনো আইনি অধিকার নেই।
- • মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্টের ধারা ১৩০ অনুযায়ী চালককে কেবল নথি দেখাতে হবে, চাবি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
- • শুধুমাত্র সাব-ইন্সপেক্টর (SI) বা তার উপরের পদমর্যাদার অফিসার নথিপত্র পরীক্ষা ও চালান কাটার ক্ষমতা রাখেন।
- • কনস্টেবল বা হোমগার্ড শুধুমাত্র ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, চাবি কাড়তে বা হেনস্থা করতে পারেন না।
- • গাড়ি আটক করার ক্ষেত্রে পুলিশকে নিয়মমাফিক অফিশিয়াল সিজার মেমো দিতে হবে।
- শান্ত থাকুন, কোনো রকম হাতাহাতিতে জড়াবেন না।
- ভদ্রভাবে বলুন: "স্যার, মোটর ভেহিকেলস আইনের নিয়ম অনুযায়ী চাবি নেওয়া বেআইনি। দয়া করে আপনার নাম ও পদমর্যাদা বলুন।"
- অফিসারের নেমপ্লেট ও গাড়ির নম্বর লিখে নিন বা ছবি তুলুন।
- পাবলিক প্লেসে দায়িত্ব পালনকারী অফিসারের ভিডিও রেকর্ড করা বেআইনি নয় (যদি ট্রাফিক বাধাগ্রস্ত না হয়)।
- অন্যায়ভাবে চাবি কেড়ে নিলে সাথে সাথে ১১২ নম্বরে ফোন করুন বা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানান।
ট্রাফিক পুলিশ কি ডিজিলকার বা mParivahan-এর ডিজিটাল নথি প্রত্যাখ্যান করতে পারে?
না! কেন্দ্রীয় মোটর ভেহিকেলস রুলস অনুযায়ী ডিজিলকার বা mParivahan-এর ডিজিটাল নথি মূল নথিপত্রের মতোই ১০০% বৈধ।
- • কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রকের স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী ডিজিলকার ও mParivahan-এর নথি দেখালে কোনো পুলিশ কর্মী মূল কাগজ দেখতে বাধ্য করতে পারেন না।
- ডিজিলকার অ্যাপ খুলে কিউআর কোড সহ ডিজিটাল লাইসেন্স দেখান।
- রুল ১৩৯ CMVR-এর উল্লেখ করুন।
পুলিশ কি গাড়ির টায়ারের হাওয়া খুলে দিতে পারে বা লাঠি দিয়ে আঘাত করতে পারে?
একদমই না! গাড়ির টায়ারের হাওয়া বের করা বা লাঠি মারা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অপরাধমূলক কাজ।
- • পুলিশ বিধিমালার অধীনে চলমান গাড়ির ওপর লাঠি চালানো বা টায়ারের হাওয়া বের করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
- অবিলম্বে ভিডিও রেকর্ড করুন বা অফিসারের ব্যাজ নম্বর লিখে রাখুন।
- ১১২ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানান।
ভেতরে মানুষ থাকা অবস্থায় কি পুলিশ গাড়ি টো করতে পারে?
সম্পূর্ণ বেআইনি। গাড়ির ভেতরে মানুষ বা শিশু থাকা অবস্থায় গাড়ি ক্রেন দিয়ে তোলা আইনত অপরাধ।
- • ভেতরে মানুষ থাকা অবস্থায় গাড়ি তোলা বিপজ্জনক অপরাধ।
- • গাড়ি ক্রেনে তোলার আগে চালক এলে গাড়ি ছাড়া বাধ্যতামূলক; শুধু পার্কিং জরিমানা হবে।
- কাঁচ নামিয়ে বলুন: 'স্যার, ভেতরে মানুষ থাকতে গাড়ি তোলা নিষিদ্ধ। পার্কিং ফাইন দিন, আমি দিয়ে দিচ্ছি।'
ট্রাফিক কনস্টেবল কি ১০০ টাকার বেশি জরিমানা করতে পারেন?
না। স্পট ফাইনে ১০০ টাকার বেশি জরিমানা করার ক্ষমতা শুধুমাত্র এএসআই বা তদূর্ধ্ব র্যাংকের অফিসারের রয়েছে।
- • কনস্টেবলরা কেবল নথিপত্র যাচাইতে সাহায্য করতে পারেন, চালান কাটার এক্তিয়ার নেই।
- অফিসারের পদমর্যাদা দেখুন এবং সরকারি ই-চালান রসিদ দাবি করুন।
রাস্তায় ব্রেথ অ্যানালাইজার দিয়ে মদ্যপান পরীক্ষার সময় আপনার অধিকার কী?
পুলিশের পরীক্ষা করার অধিকার আছে, তবে আপনার সামনে নতুন সিলপ্যাক পাইপ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- • আইনি মাত্রা প্রতি ১০০ মিলি রক্তে সর্বোচ্চ ৩০ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল।
- বলুন: 'স্যার, স্বাস্থ্যবিধির জন্য আমার সামনে নতুন সিলপ্যাক পাইপ লাগান।'
সাদা পোশাকে বা নেমব্যাজ ছাড়া পুলিশ কি গাড়ি থামিয়ে জরিমানা করতে পারে?
না। রাস্তায় ট্রাফিক চেকিং কেবল পূর্ণ ইউনিফর্ম ও নেমপ্লেট পরা ডিউটিরত পুলিশই করতে পারেন।
- • ডিউটিরত পুলিশের পরিচয়পত্র ও নেমপ্লেট পরা বাধ্যতামূলক।
- বলুন: 'দয়া করে আপনার সরকারি পুলিশ পরিচয়পত্র দেখান। ইউনিফর্ম ছাড়া কাগজপত্র দেব না।'
স্পিড ক্যামেরার ই-চালানের নোটিশ পাঠানোর আইনি সময়সীমা কত দিন?
১৫ দিনের মধ্যে। ক্যামেরায় ধরা পড়া ট্রাফিক জরিমানার নোটিশ ১৫ দিনের মধ্যে পাঠানো বাধ্যতামূলক।
- • নোটিশে গাড়ির নাম্বার ও সঠিক সময়ের পরিষ্কার ছবি থাকতে হবে।
- পরিবহন পোর্টালে গিয়ে চালান ও ক্যামেরার ছবি যাচাই করুন।