জেব্রা ক্রসিংয়ে পথচারীদের অধিকার: চালকদের থামা কি বাধ্যতামূলক এবং জরিমানা কত?
হ্যাঁ! মোটর ভেহিকল ড্রাইভিং রেগুলেশন ২০১৭ অনুযায়ী জেব্রা ক্রসিংয়ে প্রথম অধিকার পথচারীর। জেব্রা ক্রসিংয়ে গাড়ি না থামিয়ে পথচারীকে বিপন্ন করলে চালকের বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য হয়।
- • ১. সিগন্যালবিহীন জেব্রা ক্রসিংয়ে পথচারী পারাপাররত থাকলে চালককে গতি কমিয়ে গাড়ি থামানো বাধ্যতামূলক।
- • ২. জেব্রা ক্রসিংয়ের কাছে থামানো অন্য গাড়িকে ওভারটেক করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
- • ৩. লাল সিগন্যালে জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর গাড়ি দাঁড় করালে ট্র্যাফিক জরিমানা হবে।
- ১. পথচারী: গাড়ি ধীরগতির হলে সাবধানে পার হন, দ্রুতগামী গাড়ির সামনে ঝাঁপ দেবেন না।
- ২. চালক: লাল সিগন্যাল পড়লে সর্বদা স্টপ লাইনের পেছনে গাড়ি সম্পূর্ণ থামিয়ে রাখুন।
- ৩. নিয়ম লঙ্ঘনকারী বেপরোয়া গাড়ির ছবি তুলে ট্র্যাফিক পুলিশ পোর্টালে অভিযোগ করুন।
- ৪. বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
অ্যাম্বুলেন্স বা দমকলের রাস্তা আটকানো: কঠোর আইনি শাস্তি ও ১০,০০০ টাকা জরিমানার নিয়ম কী?
মোটরযান আইনের ১৯৪E ধারা অনুযায়ী জরুরি অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেডের পথ রোধ করলে তাৎক্ষণিক ১০,০০০ টাকা জরিমানা এবং ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
- • ১. জরুরি গাড়ির সাইরেন শুনলে প্রতিটি গাড়িকে অবিলম্বে বামপাশে সরে দাঁড়িয়ে পথ ছেড়ে দিতে হবে।
- • ২. সিসিটিভি ক্যামেরায় অ্যাম্বুলেন্সের সামনে বাধা সৃষ্টিকারী গাড়ির স্বয়ংক্রিয় ১০,০০০ টাকা চালান কাটা হয়।
- • ৩. রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলে বেপরোয়া চালকের বিরুদ্ধে প্রাণহানির ফৌজদারি অভিযোগ আনা যায়।
- ১. পেছনে অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনলে অবিলম্বে বামপাশে সরে গিয়ে মাঝের রাস্তা সম্পূর্ণ খালি করে দিন।
- ২. জ্যাম এড়ানোর ধান্দায় অ্যাম্বুলেন্সের ঠিক পেছনে পেছনে গাড়ি চালাবেন না।
- ৩. কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাম্বুলেন্সের পথ আটকালে গাড়ির নম্বরের ভিডিও রেকর্ড করুন।
- ৪. ট্র্যাফিক পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ভিডিও পাঠিয়ে কড়া আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান।
গাড়ির চাকায় ট্র্যাফিক পুলিশ ক্ল্যাম্প তালা লাগালে: আনলক ফি দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার অধিকার কী?
আইন অনুযায়ী চাকায় ক্ল্যাম্প লাগালে কোনো পুলিশ বেআইনি নগদ অর্থ দাবি করতে পারে না। ডিজিটাল ই-চালান ও আইন লঙ্ঘনের ছবি দিয়ে রসিদ প্রদান পূর্বক অবিলম্বে ক্ল্যাম্প খুলতে হবে।
- • ১. পুলিশ অফিসারের উপস্থিতি ছাড়া কোনো বেসরকারি কনট্রাক্টরের টাকা আদায়ের কোনো অধিকার নেই।
- • ২. যেখানে স্পষ্ট "নো পার্কিং" সাইনবোর্ড রয়েছে কেবল সেখানেই বৈধভাবে ক্ল্যাম্প লাগানো যায়।
- • ৩. ক্ল্যাম্প ফি আদায়ের জন্য কম্পিউটারের ডিজিটাল রসিদ বা সরকারি এসএমএস দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- ১. গাড়ির কাচে লাগানো নোটিশ থেকে ট্র্যাফিক কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর সংগ্রহ করুন।
- ২. আশেপাশে কোনো "নো পার্কিং" সাইনবোর্ড ছিল কিনা তার ছবি তুলে রাখুন।
- ৩. পিওএস মেশিন বা অফিসিয়াল সরকারি পোর্টালে অনলাইন ছাড়া কোনো নগদ অর্থ দেবেন না।
- ৪. রসিদহীন নগদ টাকা দাবি করলে অবিলম্বে ১১২ নম্বরে ফোন করে তোলাবাজির অভিযোগ করুন।
হাইওয়েতে গাড়ি বিকল হলে: পুলিশ কি মেকানিক ডাকার সুযোগ না দিয়েই গাড়ি টো করে জরিমানা করতে পারে?
না! মোটরযান আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী হ্যাজার্ড লাইট জ্বেলে সতর্কীকরণ রাখলে পুলিশ অবিলম্বে জরিমানা না করে মেকানিক বা নিজস্ব সহায়তা নেওয়ার যুক্তিসঙ্গত সময় দিতে বাধ্য।
- • ১. হঠাৎ গাড়ি বিকল হওয়া কোনো ইচ্ছাকৃত ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘন নয় যদি চালক সতর্কতা অবলম্বন করেন।
- • ২. চালককে অবশ্যই হ্যাজার্ড লাইট অন রাখতে হবে এবং ৫০ মিটার পেছনে লাল রিফ্লেক্টিভ ট্রায়াঙ্গেল রাখতে হবে।
- • ৩. পুলিশের দায়িত্ব বিপদে পড়া নাগরিককে সহায়তা করা, জোরপূর্বক টো-চার্জ আদায় করা নয়।
- ১. হ্যাজার্ড ব্লিঙ্কার অন করুন এবং গাড়ির পেছনে প্রতিফলক ট্রায়াঙ্গেলটি স্থাপন করুন।
- ২. ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্স বা জাতীয় সড়ক সহায়তা ১০৩৩-এ ফোন করুন।
- ৩. পুলিশ এলে বলুন: "স্যার, গাড়িটি যান্ত্রিক কারণে বিকল হয়েছে, ২০ মিনিটে মেকানিক পৌঁছাচ্ছে।\"
- ৪. ট্র্যাফিক স্বাভাবিক রাখতে গাড়িটি সাবধানে রাস্তার পাশে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখুন।