জরুরি নাগরিক হেল্পলাইন

অনুচ্ছেদ 226 Part VI 🏛️ হাইকোর্ট রিট ক্ষমতা • মৌলিক কাঠামো

হাইকোর্টের রিট (Writs) জারির ক্ষমতা (মৌলিক ও আইনি অধিকার সুরক্ষা)

সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (TL;DR)
নাগরিকদের স্থানীয় সাংবিধানিক বর্ম (হাইকোর্টের রিট ক্ষমতা): রাজ্যের হাইকোর্টকে কেবল মৌলিক অধিকারই নয়, বরং "অন্য যেকোনো আইনি অধিকার" রক্ষার্থে ৫টি রিট এবং তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ (Stay Order) জারির ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করে।
ধারা ২২৬ হলো সাধারণ ভারতীয় নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সাংবিধানিক অস্ত্র, কারণ এর জন্য দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রয়োজন নেই—নিজের রাজ্যের হাইকোর্টেই তাৎক্ষণিক আবেদন করা যায়। এর অধীনে হাইকোর্ট তার এক্তিয়ারভুক্ত যেকোনো পুলিশ অফিসার, জেলাশাসক, পুরসভা, বিদ্যুৎ পর্ষদ বা সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ৫টি রিট (হেবিয়াস কর্পাস, ম্যান্ডামাস, প্রোহিবিশন, সার্টিওরারি ও কো ওয়ারেন্টো) বা নির্দেশ জারি করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইনি পরিধির দিক থেকে ধারা ২২৬-এর ব্যাপ্তি ধারা ৩২-এর চেয়েও প্রশস্ত: সুপ্রিম কোর্ট ধারা ৩২-এ কেবল 'মৌলিক অধিকার' লঙ্ঘিত হলেই রিট জারি করে, কিন্তু হাইকোর্ট ধারা ২২৬-এ মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি 'অন্য যেকোনো উদ্দেশ্যে' (For any other purpose)—যেমন সম্পত্তির অধিকার (ধারা ৩০০A), বেআইনি বুলডোজার উচ্ছেদ, চাকরি বা পেনশন বিরোধ, অন্যায় ট্যাক্স নোটিশ বা মিথ্যে FIR বাতিলের ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিক রিট ও স্থগিতাদেশ (Stay) দিতে পারে।
দিল্লি না গিয়ে নিজের রাজ্যের হাইকোর্টেই পুলিশি জুলুম, বেআইনি আটক বা প্রশাসনিক হেনস্থার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিকার
দ্বিমুখী বিস্তৃত ক্ষমতা: 'মৌলিক অধিকার' এবং 'সাধারণ আইনি অধিকার' (সম্পত্তি, চাকরি, পেনশন, টেন্ডার)—উভয় ক্ষেত্রেই রিট জারির ক্ষমতা
বিনা নোটিশে বেআইনি বুলডোজার উচ্ছেদ বা জমি দখলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ (Stay Order) পাওয়ার অধিকার
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যে এফআইআর (FIR) খারিজ (Quash) করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ পাওয়ার অধিকার
পুরসভা, পাসপোর্ট অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি দপ্তরকে তাদের আইনি দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতে 'ম্যান্ডামাস' রিট জারি করানো
ধারা ২২৬(২) অনুযায়ী ঘটনার আংশিক কারণ (Cause of Action) আপনার রাজ্যে ঘটলে রাজ্যের বাইরের কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধেও নিজের হাইকোর্টে মামলা করার সুযোগ
মৌলিক কাঠামোর সুরক্ষা: কোনো আইন বা ট্রাইব্যুনাল হাইকোর্টের এই রিট ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে না (এল. চন্দ্র কুমার, ১৯৯৭)
ধারা ২২৬ একটি বিবেচনাধীন ক্ষমতা। কোনো বিষয়ে বিকল্প আপিল ট্রাইব্যুনাল (Alternative Remedy) থাকলে হাইকোর্ট আগে সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দিতে পারে—তবে ৪টি ক্ষেত্রে হাইকোর্ট সরাসরি হস্তক্ষেপ করে (হোয়ার্লপুল রায়, ১৯৯৮): (১) মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন, (২) প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার লঙ্ঘন (শুনানি ছাড়া আদেশ), (৩) এক্তিয়ার বহির্ভূত আদেশ, বা (৪) আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ।
পুরসভা যদি বিনা নোটিশে আপনার দোকান ভাঙতে আসে, বিশ্ববিদ্যালয় অন্যায়ভাবে ডিগ্রি আটকে রাখে, কিংবা পুলিশ কাউকে বেআইনিভাবে আটকে রাখে—তবে আপনার আইনজীবী ধারা ২২৬-এর অধীনে হাইকোর্ট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিকার পেতে পারেন।
আরও গভীরে পড়তে চান? সরকারি গেজেট পাঠ অথবা সুপ্রিম কোর্টের রায় ও গণপরিষদ বিতর্ক দেখুন:
Copied to clipboard!
EN-IN • STUDIO VOICE
Preparing studio neural voice...